ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) তিন দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ৩৫ বাংলাদেশি অনিয়মিত অভিবাসীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে তাঁদের বহনকারী একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন।
ঢাকার ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল সোয়া আটটার দিকে পিভিজি ৯৪৪৫ নম্বরের একটি বিশেষ চার্টার ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকায় পৌঁছান।
বিমানবন্দরে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জরুরি সহায়তা, কাউন্সেলিং এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেয় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এ কাজে সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটি ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সহযোগিতা করে। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
ফেরত আসা অভিবাসীদের বিষয়ে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, একটি বিশেষ বিমানে করে শুক্রবার সকালে ৩৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাঁদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপ থেকে অনিয়মিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত আনার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপি) চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই ব্যবস্থার আওতায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে ব্র্যাক।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছেন সাইপ্রাস, ইতালি, রোমানিয়া ও ফ্রান্স থেকে।
সংবাদমাধ্যমে আসা তথ্য অনুযায়ী, চার্টার ফ্লাইটটি ইতালির রাজধানী রোম থেকে যাত্রা শুরু করে। গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশিদেরও যৌথ ফ্লাইটে ওঠার জন্য রোমে নেওয়া হয়েছিল। পরে বিমানটি কেপ টাউন ও ইসলামাবাদে যাত্রাবিরতি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছায়।
চলতি মাসে বাংলাদেশ সফর করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার মাগনুস ব্রুনার। এ সময় অনিয়মিত অভিবাসন শূন্যে নামিয়ে আনা এবং ইউরোপের শ্রমবাজারে শতভাগ বৈধ পথে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরির বিষয়ে দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছায়।
বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন মাগনুস ব্রুনার।
তিনি বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অনিয়মিত অভিবাসনের পথ বন্ধ করা উভয় পক্ষের অগ্রাধিকার। অনিয়মিত অভিবাসন কমানো গেলে বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ পথে ইউরোপের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ সহজ হবে।