শত শত ফানুসের উৎসব এখন শুধুই স্মৃতি

একসময় প্রবারণা পূর্ণিমা এলেই উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠত কুয়াকাটা ও কলাপাড়ার রাখাইন পল্লিগুলো। সন্ধ্যা নামতেই আকাশে উড়ত শত শত রঙিন ফানুস। সাগরপাড়ের রাতের আকাশ আলোকিত হয়ে উঠত ফানুসের আলোয়। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতেন সেই দৃশ্য দেখতে। ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি ফানুস ওড়ানো ছিল রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, আনন্দ ও সম্মিলিত উদযাপনের এক অনন্য প্রতীক।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। একসময় শত শত ফানুসে আকাশ রাঙানো উৎসব এখন অনেকটা অতীত। কোথাও সীমিতসংখ্যক ফানুস উড়িয়ে, আবার কোথাও নামমাত্র আয়োজনের মধ্যদিয়ে উদযাপন করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব।সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা ও কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন রাখাইন পল্লিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা। সকাল থেকে বৌদ্ধবিহারগুলোতে প্রার্থনা, শীল গ্রহণ, সংঘদান, পিঠা-পুলি নিবেদন ও ধর্মীয় দেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন ও ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, এটা চলবে দুদিন। তবে আয়োজনের পরিধি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে অতীতের সঙ্গে বর্তমানের তুলনা।শত শত ফানুসের জায়গায় হাতেগোনা কয়েকটি

স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় কুয়াকাটা ও আশপাশের রাখাইন পল্লিগুলোতে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে টানা কয়েক রাত ধরে শত শত ফানুস ওড়ানো হতো। পল্লি থেকে পল্লিতে চলত প্রস্তুতি, তৈরি হতো ফানুস। আর উৎসবকে ঘিরে গড়ে উঠত সম্মিলিত আনন্দের পরিবেশ। ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি এ আয়োজন ছিল নিজেদের সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধন প্রকাশের একটি বড় উপলক্ষবর্তমানে অনেক পল্লিতে সেই আয়োজন আর নেই। কোথাও ১০-১২টি, কোথাও তারও কম ফানুস ওড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে উৎসবের ঐতিহ্য টিকে থাকলেও তার ব্যাপ্তি ও জৌলুস আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে।