ময়মনসিংহের ভালুকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনামূলক ভিডিও প্রচারের জেরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় গ্রেফতার হনুফা আক্তার সাথী (৩০) জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নন জিআর আমলী আদালতের বিচারক ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজেদুল ইসলাম ৫০০ টাকার বন্ডে নিজ জিম্মায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ তার জামিনের বিরোধিতা করেনি।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, স্পষ্টতই সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রদান বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটন রোধ ও আইনানুগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৫ অক্টোবর ভালুকার মাস্টারবাড়ী এলাকায় ‘সাথী বিউটি পার্লারের’ স্বত্বাধিকারী হনুফা আক্তার বিদ্যুৎ লাইনের তার চুরির ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে সরকারের সমালোচনামূলক একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ও তথ্য নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ১৫০ থেকে ২০০ মানুষ তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে সমবেত হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উপক্রম হয়।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ধর্তব্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করে ১৫১ ধারায় তাকে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার দেখায়। পরদিন ২৬ অক্টোবর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং বুধবার তিনি জামিনে মুক্ত হন।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ১৫১ ধারার প্রয়োগ নিবর্তনমূলক বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী নয়, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তির সুরক্ষার জন্যই এটি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।