সিলেট

সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে গড়ে তোলা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

 

সিলেট, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: কৃষির আধুনিকায়ন, বছরজুড়ে পরিকল্পিত সবজি উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান সবজি উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্রে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

এ লক্ষ্যে কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন এবং সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় আধুনিক প্যাকেজিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সিলেট সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেট সদর আয়োজিত ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ভর্তুকিমূল্যে কৃষিযন্ত্র (ট্রাক্টর) ও বিনামূল্যে এলএলপি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, সিলেটের কৃষিকে আধুনিক, উৎপাদনমুখী ও লাভজনক করতে সরকার কাজ করছে। পরিকল্পিতভাবে সবজি উৎপাদন, উন্নত প্যাকেজিং ও সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিপণ্য উৎপাদন করা গেলে এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছে সিলেটের শাকসবজি পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উৎপাদনের পাশাপাশি পণ্যের মান, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

সিলেট সদর উপজেলার প্রতিটি কৃষিজমি সারা বছর চাষাবাদের আওতায় নিয়ে আসা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পানির অভাব ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানে খাল খননসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে সেচের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং আরও বেশি জমি চাষাবাদের উপযোগী হবে।

কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যন্ত্রের ব্যবহার বাড়লে কৃষকের শারীরিক শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কমবে। ভর্তুকিমূল্যে বিতরণ করা কৃষিযন্ত্র যথাযথভাবে কৃষিকাজে ব্যবহার করতে হবে। সরকারি সহায়তার অপব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের কৃষিপণ্য রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; পণ্যের মান বজায় রাখা, যথাযথ প্যাকেজিং, সংরক্ষণ এবং সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে সিলেট বিমানবন্দর এলাকায় প্যাকেজিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিলেটের কোন অঞ্চলে কোন মৌসুমে কী ধরনের সবজি ভালো উৎপাদিত হয়, তা চিহ্নিত করে উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। মৌসুমভিত্তিক পরিকল্পিত উৎপাদনের মাধ্যমে সারা বছর বাজারে সবজির সরবরাহ বজায় রাখার পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণও বাড়ানো সম্ভব হবে।

আগামী পাঁচ বছরে সিলেটের কৃষি ও সামগ্রিক উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার আশাবাদ ব্যক্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটের কৃষিকে আরও সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত করা সম্ভব।

জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

নিউজ হবে