সিলেটের উন্নয়নে ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট নগরের ব্লু ওয়াটার শপিং সিটির ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় দাবা খেলার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের কৃষি, শিল্পায়ন, যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটন, নগর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি সরবরাহ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অবকাঠামো নির্মাণই উন্নয়নের একমাত্র লক্ষ্য নয়, মানুষের জীবনমানের উন্নয়নই হওয়া উচিত উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য।

ইমজার সভাপতি, যমুনা টেলিভিশনের সিলেট ব্যুরোপ্রধান ও দৈনিক যুগান্তরের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভির সিনিয়র ক্যামেরাপার্সন আনিস রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কে নতুন সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য জাপানের গুরুত্ব অনেক। দ্বিপক্ষীয় সহায়তার ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অংশীদার। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। জাপানের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় মাতারবাড়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এবং ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। চুক্তিটি জাপানের পক্ষ থেকে যাচাইয়ের জন্য আগামী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপনের কথা রয়েছে। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিভিন্ন পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করা সম্ভব হলে এই চুক্তির বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাপানে গেছেন। সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী।

কৃষির যান্ত্রিকীকরণে কমবে উৎপাদন খরচ

সিলেটের কৃষি উন্নয়ন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। একটি ট্রাক্টর এক দিনে যে পরিমাণ জমি চাষ করতে পারে, সেই কাজ করতে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, ট্রাক্টর চালাতে এক দিনে প্রায় দুই লিটার ডিজেল লাগে। ফলে কৃষিকাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।

তিনি বলেন, সিলেট সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে কৃষকদের মধ্যে ট্রাক্টর বিতরণ করা হয়েছে। কৃষির উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে বিভিন্ন এলাকায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেটের কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কোথায় সেচের প্রয়োজন এবং কোথায় জলাবদ্ধতা দূর করা দরকার, তা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সিলেট সদর উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমির পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগাতে শুকনা মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা এবং বর্ষা বা অতিবৃষ্টির সময় জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।