মনজু বিজয় চৌধুরী॥ ফুলে ফুলে ভরে আছে মৌলভীবাজারের প্রবীণাঙ্গন। বিভিন্ন জাতের গোলাপ, কয়েক জাতের জবা, রঙ্গন, গাঁদা, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, বকুল, গন্ধরাজ ও চেরিসহ প্রায় অর্ধশত জাতের দুইশতাধিক ফুলের সমাহার ঘটানো হয়েছে মৌলভীবাজার প্রবীণাঙ্গনে।
যার অবস্থান মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকে কার্যালয়ের বিপরীতে, জেলা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতের পাশে জনমিলন কেন্দ্রের সম্মুখে শহরের অন্তন্ত ব্যস্ততম জায়াগায় এর অবস্থান।
ফুলবাগান শুধু প্রবীণদেরই মন ভালো করে না, এটি মৌলভীবাজার শহরের ব্যস্ততম এলাকায় হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষেরও মন কারে এর ডম্বিয়া ফুল, এরোমেটিকজুই, ব্লাডেডহার্ড, ল্যান্টেন জবা, পাউডার পাফ, নিলাঞ্জন, সারভেরা, গোল্ডেন শাওয়ার, বেগন বেলীয়া, বাসর লত, বিচিএা, পিংক ম্যাগনেলিয়া, টিবু চায়না, মে ফ্লাওয়ার, টেকোমা ক্যামেলিয়াসহ সৃজনাল আরো অনেক জাতের ফুল।
জেলার জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের আড্ডার জন্য মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান জনমিলন কেন্দ্রের সম্মুখসহ বিশাল একটা অংশজুড়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘প্রবীণাঙ্গন’।
মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান জানান, পৌর জনমিলন কেন্দ্রে মৌলভীবাজার পৌরসভার অর্থায়ন এবং ব্যক্তি পর্যায়ের অনুদান নিয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের আড্ডা ও বিনোদনের জন্য শত শত ফুল গাছের সমাহারে ও নানা উপকরণে সাজিয়ে রেখেছেন এই প্রবীণাঙ্গন।
তিনি বলেন, এখন যারা প্রবীণ তারা এক সময় তাদের যৌবনের পুরোটা দিয়েছেন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে। তাদের পেছন ফিরে তাকানোর সময় ছিল না। এখন তাদের অফুরন্ত অবসর। চাইলেই তারা সবখানে যেতে পারেন না। কোথাও বসে নির্মল আড্ডা দিতে পারেন না। এসব ভাবনা থেকেই প্রবীণাঙ্গন তৈরি করেছি।’
পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়ণে এবং ব্যক্তি পর্যায়ের অনুদান থেকে এই স্থানটিকে এমনভাবে নান্দিনিক করে সাজানো হয়েছে যাতে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকরা সকাল-বিকাল এখানে এসে সময় কাটাতে পারেন। তিনি জানান, প্রবীণদের জন্য ফুল বাগানের মধ্যদিয়ে হাঁটার পথ এবং মাঝেমধ্যে বসার ব্রেঞ্চও করে দিয়েছেন।
তৈরী করে দিয়েছেন একটি কক্ষ যেথানে রয়েছে একটি লাইব্রেরী, রয়েছে টিভি। হাঁটতে হাঁটতে কেউ ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিশ্রামের জন্য দুটি খাটও রেখেছেন। করা হয়েছে পানীয়জল ও ওয়াস রোমেরও ব্যবস্থা। উদ্বোধনের পর থেকে এই স্থানটি মৌলভীবাজারের প্রবীণদের এক বৈকালীক ও প্রাতকালীণ আড্ডারস্থল হিসেবে রুপ নিয়েছে।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের প্রবীণ নাগরিক দৈনিক বাংলার দিনের সম্পাদক বকসী ইকবাল আহমেদ জানান, সেখানে গেলে তাদের বয়সী মানুষের সাথে দেখা হয়। শৈশবের বন্ধুরের সাথে আড্ডা দিতে পারেন, বই পড়েন, অনেক সময় খেলাধুলা করেও সময় কাটান।
বিশেষ করে এর ফুলবাগান সকলের বর্তমানে এটিযে শুধু প্রবীণদের আড্ডাস্থল তা নয়। এখানে নানা বয়সের মানুষেরা গিয়েও ছবি তুলেন।
মৌলভীবাজার জেলা বারের প্রবীণ আইনজীবি কিশোরী পদ দেব শ্যামল জানান, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়রের অত্যন্ত রুচিশীল একটি কাজ এটি। এর ফুলবাগন ও প্রাকৃতিক রুপ শুধু বয়স্কনয় পথচারীদেরও মুগ্ধ করে।