১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমার দ্বারা কারো বিন্দুমাত্র হক নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে ডা. দুলাল

 

ডায়াল সিলেট ডেস্ক :: বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে সিলেট-৩ আসনের অন্তর্গত দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত চষে বেড়াচ্ছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া’র ভিশন অনুযায়ী তারই নির্দেশনার আলোকে কাজ করে যাচ্ছি।

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার এ নির্দেশনার আলোকেই গত হওয়া শোকের মাস আগস্টে আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৫ হাজার রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসাসেবা প্রদান করি ও বিনামূল্যে ৮ লক্ষ টাকার ঔষধ প্রদান করি। এর আগেও এ ৩টি উপজেলায় বেশ কয়েকটি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ঔষধ প্রদান কার্যক্রমের আয়োজন করেছি। এছাড়াও আমি আরও বিভিন্ন মাধ্যমে অত্র উপজেলাগুলোসহ সিলেট ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসহায় রোগীদের আর্থিক সহযোগিতাসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছি। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বুধবার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

 

এসময় তিনি আরও বলেন, বিগত বন্যায় দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজনের মাঝে খাদ্যসামগ্রী, রান্না করা খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করি। বন্যা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে প্রায় শতাধিক পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান প্রদান করি। এর আগে করোনা মহামারীতে সারাদেশের অসহায় লোকজনকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। আপনাদের মাধ্যমেও অনেক রোগীকে সহযোগিতা করার সুযোগ আমি পেয়েছি। এছাড়াও আমার ব্যক্তিগত অর্থায়নে সিলেট বিভাগের চারটি জেলার থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নগদ আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করি। যা এখনো অব্যাহত রেখেছি। শীতের মৌসুমে সিলেট-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণসহ সিলেট-৩ আসনের বিভিন্ন উপজেলাসহ সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গরিব-অসহায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়ালেখার খরচ বহন করি। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন পীড়িত মানুষদের ভাগ্যোন্নয়নে আমার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

ফেঞ্চুগঞ্জ যুব সংঘের হলরুমে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দীন ইসকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, সিলেট-৩ আসনে অনুষ্ঠিতব্য গত উপনির্বাচনে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে কাজ করেছি এবং আমার দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে মনোনয়ন লাভের জন্য আবেদন করি। দল আমাকে মনোনয়ন না দিলেও প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আমি দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতে কাজ করেছি। আমি দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে যোগদান করেছি। যার ছবি এবং ভিডিও আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখেছেন। তৎকালীন সময় থেকে এখনো আমি সিলেট-৩ আসনের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছি। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার দলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দের দোয়া ও সহযোগিতা নিয়েই আমি আমার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি আমার দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের সকল যোগ্যতা আমার রয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই জনপদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন সাধন করতে পারবো। এই জনপদের রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্টসহ সকল অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনে আমার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করে এই জনপদের শিক্ষা বিস্তারে আমূল পরিবর্তন সাধন করতে পারবো। আপনারা জানেন যে, সরকারি চাকরির সুবাদে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আমার নিয়মিত যাওয়া-আসাতে এ সবকিছুই আমার জন্য সহজতর হয়ে গেছে। আপনাদের যেকোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে তা বাস্তবায়ন করার মতো সামর্থ্য আমি রাখি। দীর্ঘ চাকরির অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আপনাদের উন্নয়নে আমার সবটুকু দিয়ে কাজ করে যাবো।

 

তিনি আরও বলেন, সর্বোপরি সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা ইনামুল হক চৌধুরী বীরপ্রতীকের সহোদর হিসেবে একথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে একজন আইন প্রণেতা হিসেবে যা কিছুই আপনাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তাতেই সর্বদা একনিষ্ঠ হয়ে আপনাদের স্বার্থ হাসিলে আপনাদের একজন সেবক হিসেবে কাজ করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্য নিজ নিজ স্থানে প্রতিষ্ঠিত। আমারও পরিবারে দেওয়ার নাই, নেয়ারও নাই। সুতরাং আমার দ্বারা আপনাদের বিন্দুমাত্র হক নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।

 

মতবিনিময়ের শুরুতে ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল স্মরণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালির রাখাল রাজা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ৭৫-এর ১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাতে আত্মদানকারী সকল বীর শহীদদের। আরও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো মা-বোনদের এবং বাঙালির স্বাধীনতার সাথে জড়িত সবকটি যৌক্তিক আন্দোলনে আত্মহুতি দেয়া সকল বীর শহীদদের। স্মরণ করেন তাঁর বড় ভাই সাবেক সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা ইনামুল হক চৌধুরী বীরপ্রতীক ও সিলেট-৩ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েছকে। মতবিনিময় শেষে তাঁর নিজ উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সকল সদস্যদের বিনামূল্যে হেপাটাইটিস-বি পরীক্ষা করানো হয়। মতবিনিময়ের খবর পেয়ে বিভিন্ন লোকজন চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আসলে তাঁদেরকে পরামর্শ প্রদান করেন তিনি। মতবিনিময়ে ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলার আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।