ডায়ালসিলেট ডেস্ক: রিবেশ আইন লঙ্ঘন করে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামকান্দি কুলাউড়া এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে টিলা কেটে ফসলি জমি ভরাট করা হচ্ছে।
গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল কাদিরের বড় একটি প্রাকৃতিক টিলার মাটি কেটে পাশের (আব্দুল কাদিরের) নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে। অবৈধভাবে মাটি কাটা ও ভরাটের এই কাজে সহযোগিতার অভিযোগ ওঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে জাতীয় স্বার্থে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাতের আঁধারে জামকান্দি কুলাউড়া গ্রামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আব্দুল কাদিরের বড় একটি টিলার মাটি কেটে পাশের (আব্দুল কাদিরের) একটি নিচু জমি ভরাট করা হচ্ছে। একটি বড় অ্যাস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ৩টি ট্রাক্টরে বহন করে তা জমিতে নিয়ে ফেলা হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, টিলা ও জমিটি বিছরাবাজার-নিজবাহাদুরপুর সড়কের জামকান্দি কুলাউড়া এলাকায় পড়েছে। যে টিলা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে তার ফটকে তালা দেওয়া রয়েছে। পাশের জমিতে টিলা কেটে ভরাটের দৃশ্য দেখা গেছে। জমির কিছু অংশে এখনো মাটি ভরাটের বাকি রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামকান্দি কুলাউড়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, দিনের বেলায় কাজ বন্ধ থাকে। রাত ৯টা-১০টার দিকে মাটি কাটার কাজ শুরু হয়। আমাদের মেম্বারের নেতৃত্বে চলে ফজরের আজান পর্যন্ত টিলা কাটার কাজ। তারা আরও জানান, শুক্রবার ৮ এপ্রিল রাতে থানার টহল পুলিশ মাটি ভর্তি একটি ট্রাক্টর আটক করে। পরে কি হয়েছে তা জানেন না। এরপর থেকে প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর থেকে টিলা কাটার কাজ চলছে।
টিলার মালিক আব্দুল কাদির দেশে না থাকায় ও চেষ্টা করেও মুঠোফোন সংগ্রহ করতে না পারায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। এব্যাপারে জানতে ওই ইউপি সদস্যের মুঠোফোনে বারবার কল দেওয়া হয়। কিন্তু রিং হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এজন্য তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান জানান, টিলা কাটার বিষয়টি কেউ তাকে অবগত করেনি। তিনি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
ইউএনও সুনজিত কুমার চন্দ জানান, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন করতে পারেন না। তদন্ত সাপেক্ষে তিনি এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।