ডায়াল সিলেট ডেস্ক : কমলগঞ্জ থানায় মামলার তদন্ত ছাড়া আসামী গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে অভিযোগ দাখিল করেই কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া আসামী গ্রেফতার করছে পুলিশ। আসামী গ্রেফতার করে কোর্টে চালান দেওয়ার ৫ দিন পর করা হচ্ছে তদন্ত। মামলার ধারা ব্যবহার করা হচ্ছে টাকা লেন দেনের ওজনের ভিক্তিতে। শুধু হাতাহাতির অভিযোগে শারীরিক কোন আঘাত না থাকার পরও মামলায় লাগানো হচ্ছে জামিনের অযোগ্য ৩০৭ ধারা। এধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সঞ্চয় চক্রবর্তী ও তদন্তকর্মকর্তার এসআই অনিক রঞ্জ দাস বিরুদ্ধে। কমলগঞ্জ থানার গবিন্দপুর গ্রামের শরিফা বেগম(৪৫) কমলগঞ্জ থানায় আপন ভাইপো সুয়েব মিয়া(২৮), ভাবি সফিনা বেগম(৫৫), ভাইপোর স্ত্রী হেপি বেগম(২৪) এর উপর অভিযোগ করেন। তাদের মৌরসী সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে আদালতে মামলা চলছে। শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) গোবিন্দপুর গ্রামে তাদের মৌরসী বিরোধ পূর্ন জমিতে হাল চাষকে কেন্দ্র করে সুয়েব মিয়া, সফিনা বেগম ও হেপি বেগমের সাথে ধাক্কা ধাক্কি হয়। এসময় সুয়েব মিয়া কাঠের রুইল দিয়ে শরিফা বেগমকে মাথায় আঘাত করলে আঘাতটি হাতে লাগে। অন্যরা কিল,ঘুষি,লাথি,চর,থাপ্পর মারে। এই অভিযোগ এনে ৩ সেপ্টেম্বর কমলগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সঞ্চয় চক্রবর্তী অভিযোগটি আমলে নিয়ে সাথে সাথে এফআইআর নির্দেশ দেন। কমলগঞ্জ থানার এসআই অনিক রঞ্জন দাস কোন প্রকার তদন্ত ছাড়া ঔই দিন রাতে সুয়েব মিয়াকে গ্রেফতার করে পরদিন ৩০৭ ধারা সহ কয়েকটি ধারা দিয়ে আদালতে আসামী চালান দেন। কমলগঞ্জ উজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শরিফা বেগমের চিকিৎসা পত্রে দেখা যায় তার মাথায় বা হাতে আঘাতের কোন প্রকার চিহ্নের উল্লেখ নাই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা পত্রে ফিজিকেল এস্যল্ট লিখা থাকলেও কোন প্রকার আঘাতের চিহ্ন উল্লেখ না করে নর্মাল কিছু ঔষধ পত্র দেওয়া হয়েছে। কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সঞ্চয় চক্রবর্তী ও তদন্ত কর্মকর্তার এসআই অনিক রঞ্জ দাস রহস্য জনক কারনে ৩০৭ ধারা সংযুক্ত করে আসামীকে আদালতে চালান দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এধরনের অনেক ঘটনার প্রমান রয়েছে অসংখ্য ভোক্তভোগীর হাতে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক ভোক্তভোগী বলেন, কমলগঞ্জ থানায় এখন চলচ্ছে মামলা নিয়ে বানিজ্য। মামলা করতে গেলে থানা পুলিশের চুক্তি মতো টাকা না দিতে পারলে সত্য মামলাটিও নেওয়া হয়না। পরামর্শ দেওয়া হয় আদালতে মামলা দেওয়ার। আবার সঠিক মামলার চার্জসিটও উল্টা পাল্টা হয়ে যায়। কমলগঞ্জ থানার মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও সচেতন মহল দাবী করছেন, অফিসার ইনচার্জ সঞ্চয় চক্রবর্তী যোগদানের পর থেকে কমলগঞ্জে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি খুব অবনতি হচ্ছে। সর্ব মহলের ধারনা কমলগঞ্জ থানার পুলিশ ঘুষ বানিজ্যে মনোনিবেশ করায় সাধারন মানুষ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর কুচক্রী মহল মাথাছাড়া দিয়ে উঠছে।