ডায়াল সিলেট ডেস্ক :: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দলটির শতাধিক নেতা তৎপরতা চালাচ্ছেন। প্রার্থী না হতে দলের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলের ৩২ নেতাকে মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, গত দুটি সিটি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে টানা দুবার মেয়র নির্বাচিত হওয়া আরিফুল হক চৌধুরীকেও মৌখিকভাবে প্রার্থী না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, বিএনপি পাতানো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তাই সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে বিএনপির নেতাদের মধ্যে যেসব সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী আছেন, তাদের প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মেয়র আরিফুল হককে চিঠি দেওয়া না হলেও একই অনুরোধ মৌখিকভাবে করা হয়েছে।
সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের দেওয়া চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট বক্তব্য, এই পাতানো নির্বাচনে দলের কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মী মেয়র বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে পারবে না। যদি এই পাতানো নির্বাচনে দলের কোনো নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠিন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা আশা করি, আপনি এই পাতানো নির্বাচন থেকে বিরত থাকবেন। দেশের এই ক্রান্তিকালে দলের চূড়ান্ত আন্দোলনের সময়ে আমরা আপনার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।’
মহানগর বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক দলের ৩২ জন নেতার সন্ধান বিএনপি জানতে পেরেছে। সম্ভাব্য এসব কাউন্সিলর প্রার্থীদের তাই দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় অনেকেই নির্বাচন থেকে বিরত থাকবেন বলে দলটি আশা করছে।
এদিকে, তৃণমূল বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যে ৩২ জন নেতাকে দলের চিঠি দেওয়া হয়েছে, এর বাইরেও স্থানীয়ভাবে বিএনপিপন্থী ও সমর্থক হিসেবে পরিচিত আরও অর্ধশতাধিক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে তৎপর রয়েছেন। যদিও এখন বিএনপির নির্বাচনবিরোধী তৎপরতার কারণে শেষ পর্যন্ত বিএনপির এই কর্মী-সমর্থকেরা সিটি নির্বাচনে অংশ না-ও নিতে পারেন। দলের মনোভাব বুঝে অনেকে ধীরে ধীরে নিজেদের নির্বাচন থেকে গুটিয়েও নিচ্ছেন।
মহানগর বিএনপির চিঠি পেয়েছেন, এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমি দলে গুরুত্বপূর্ণ একটা পদে ছিলাম। আবার এলাকাবাসী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য প্রচণ্ডভাবে চাপ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় উভয় সংকটে পড়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে নির্বাচন করা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তই আপাতত নিয়েছি।’
নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে সিলেট মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না। আগেই বলেছি, ২০ মে বেলা আড়াইটায় নগরের রেজিস্টারি মাঠে জনসভা করে প্রার্থিতার বিষয়টি স্পষ্ট করব। প্রার্থী হব কি হব না, এটি সেদিনই নগরবাসীর কাছে সুস্পষ্ট হবে।