২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কুলাউড়ায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে আটক ১০ জনকে নেওয়া হচ্ছে ঢাকায়

ডায়াল সিলেট ডেস্ক: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে আটক ১০ জনকে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তাদেরকে সেখানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব টাট্টিউলি গ্রামের একটি পাহাড়ি বাড়িতে ৪ ঘণ্টার অভিযান শেষে শনিবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মো. আসাদুজ্জামান।শুক্রবার (১১ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে পূর্ব টাট্টিউলি গ্রামেও ওই বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়। পরে শনিবার সকাল ৬টা থেকে অভিযান শুরু করে সিটিটিসি। আটককৃতদের মধ্যে ৬ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া ৩ শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন-  সাতক্ষীরা জেলার সদর থানার দক্ষিণ নলতা গ্রামের ওমর আলীর ছেলে শরীফুল ইসলাম (৪০), একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের স্ত্রী আমিনা বেগম (৪০), তার মেয়ে মোছা. হাবিবা বিনতে শফিকুল (২০), কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার কানলা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাফিজ উল্লাহ (২৫), নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার রসুলপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে খায়রুল ইসলাম (২২), খায়রুলের স্ত্রী মেঘনা (১৭), সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর থানার মাইজবাড়ী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রাফিউল ইসলাম (২২), পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের স্ত্রী শাপলা বেগম (২২), নাটোর জেলার সদর থানার চাঁদপুর গ্রামের সোহেল তানজীম রানার স্ত্রী মাইশা ইসলাম (২০) ও বগুড়া জেলার শরিয়াকান্দি থানার নিজবলাই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী মোছা. সানজিদা খাতুন (১৮)।

এ ছাড়া হেফাজতে নেওয়া তিন শিশু হচ্ছে- নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার রসুলপুর গ্রামের খায়রুল ইসলামের মেয়ে আবিদা (১), পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের মেয়ে হুজাইফা (৬) ও জুবেদা (১৮ মাস)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিটিটিসি’র প্রধান বলেন- বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ৫০টি ডেটোনেটর, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, কমান্ডো বুট, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সরঞ্জামাদি, বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই ও ধারালো অস্ত্রসহ নগদ ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন অবস্থা করার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মজুদ ছিল।তিনি বলেন- এটি নতুন একটি উগ্রবাদী সংগঠন, নাম হচ্ছে ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলা’। বাংলাদেশে এই সংগঠন নতুন কার্যক্রম শুরু করেছে। আমরা ‘অপারেশন হিলসাইড’ পরিচালনা করে তাদেরকে আটক করি। এই সংগঠনের সঙ্গে আরও যারা জড়িত আছেন তাদেরকেও আটক করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন- মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমান, গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) কামরুজ্জামান, সিটিটিসির এডিসি নাজমুল ইসলাম, সোয়াট টিমের এডিসি জাহিদ, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোহসিন ও কুলাউড়া থানার ওসি মো. আব্দুছ ছালেক।

এদিকে, দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম, কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান।