১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৌলভীবাজার

জুড়ী উপজেলার বন্যা কবলিত এসব এলাকা পরিদর্শন-জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান

জুড়ী উপজেলার বন্যা কবলিত এসব এলাকা পরিদর্শন-জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান

মনজু চৌধুরী: কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম রাজ্য থেকে জুড়ী নদী হয়ে নেমে আশা ঢলে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। শনিবা মৌলভীবাজারের  জুড়ী উপজেলার বন্যা কবলিত এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান ।

সরেজমিনে দেখা যায়, জায়ফরনগর ইউনিয়নের হাকালুকি হাওর পারের পশ্চিম গবিন্দপুর, কানকৈরচক, হেকিমপুর,মনোহরপুর,সোনাপুর, বেলাগাঁও, শাহপুর, নিশ্চিন্তপুর, ইউসুফ নগর, নয়াগ্রাম ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর, খাগটেকা, কালনীগর, কৃষ্ণনগর গ্রামের বেশির ভাগ অংশ প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি রয়েছেন অনেক মানুষ। অনেক গ্রামের রাস্তা ঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নলকুপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট চলছে। অনেক এলাকায় গুখ্যাদ্যের সংকটের পাশাপাশি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে শতাধিক মৎস্য খামার। অনেক খামারি পুকুর পাড়ের চারদিকে প্লাস্টিকের নেট দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা করছেন। এদিকে গত ৪৮ ঘন্টার টানা বৃষ্টিতে বেলাগাঁও গ্রামের রেললাইন সংলগ্ন একটি পিডিপির বিদ্যুতের খুটি হেলে পড়েছে।তবে বিদ্যুতের কোন সমস্যা নেই জানিয়েছেন পিডিবির উপ সহকারী প্রকৌশলী আনসারুল কবির শামীম।তিনি জানান,জুড়ীতে পিডিবির যে সাব স্টেশন রয়েছে সেখানের অনেক নিচে পানি রয়েছে।প্রায় ১ ফুট পানি বাড়লে পাওয়ার সাব স্টেশনে পানি ঢুকতে পারে, এতে করে বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আতংকে রয়েছেন পাহাড়ের আশেপাশে বসবাসরত মানুষ।শুক্রবার রাতে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম গোয়ালবাড়ি এলাকার মর্তুজ মিয়ার ঘরে থাকা ২ টি গরু,২ টি ছাগল,২০ টির মত হাসঁ পাহাড় ধসে মারা যায়।পাহাড়ের নিচের এসব ঘরের মানুষ রয়েছেন আতংকে।যেকোন সময় পাহাড় ধসে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।জায়ফর নগর ইউনিয়নের বজিটিলা পাহাড়ের আশেপাশের মানুষ যাতে ক্ষতির সম্মুখীন না হোন সে জন্য কেবিএহিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে মানুষজনকে সচেতন করা হয়েছে।অতীতে সেখানে পাহাড় ধসে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জায়ফর নগর ও পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের মানুষের জন্য ৮ টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব হলো জায়ফর নগরের হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র,জায়ফর নগর উচ্চ বিদ্যালয়,বেলাগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নে নিরোদ বিহারী উচ্চ বিদ্যালয়,কালনীগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বশিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।এসবের মধ্যে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে কিছু সংখ্যক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।বন্যার কারনে বেশি ক্ষতির মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো।উপজেলার শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিশ্চিন্তপু্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,বেলাগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব বেলাগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর জাঙ্গিরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,দিঘলবাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,পশ্চিম গবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি থাকার কারনে ইত্যোমধ্যে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আব্দুল আজিজ নামের একজন প্রধান শিক্ষক বলেন,যে পরিমাণে অনবরত বৃষ্টি হচ্ছে,পানি বাড়ার কারনে আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে যেতে পারে,এতে সেগুলোর পাঠদান ও বন্ধ করতে হবে।
জায়ফরনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন,ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম বন্যা কবলিত।হাওরপাড়ের ৮টি গ্রাম বেশি ক্ষতিগ্রস্থ।এসব গ্রাম ঘুরে এসেছি, মানুষ অনেক সমস্যার মধ্যে রয়েছে। গৌরিপুর গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ রক্ষার জন্য যে বাদ রয়েছে,সেটির পাশ দিয়ে কিছু পানি ঢুকছে,ইমাজেন্সি বালি ভর্তি বস্তা দিয়ে বাধ রক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।