৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজনীতি

জয় ও লেখকের অপকর্মের অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি বিপ্লব বড়ুয়ার, ক্ষুব্দ কেন্দ্রীয় নেতারা

জয় ও লেখকের অপকর্মের অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি বিপ্লব বড়ুয়ার, ক্ষুব্দ কেন্দ্রীয় নেতারা

 

 

 

ডায়ালসিলেট রিপোর্ট :: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের বিভিন্ন ‘অপকর্মের’ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে অপব্যবহারের বিরুদ্ধে শতাধিক ছাত্রলীগ নেতার লিখিত অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দপ্তরে জমা দিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়েছিল সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির একটি অংশ।।

 

 

 

শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর)  ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার কাছে সিলগালা করা অভিযোগপত্রটি হস্তান্তর করার কথা থাকলেও তিনি তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে অভিযোগপত্রটি ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের চার নেতার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

 

অভিযোগ সম্পর্কে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি কামাল খান জানান, ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতার স্বেচ্ছাচারিতা, কেন্দ্রীয় নেতাদের অবমূল্যায়ন, পদ-বাণিজ্য, প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই কমিটি গঠন, চাঁদাবাজী, মাদকসেবী, ছাত্রদল ও শিবিরকর্মীদের কমিটিতে পদায়নসহ সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

অভিযোগপত্রে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নানা অপকর্মের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রায় ১০০ কেন্দ্রীয় নেতার সই নেওয়া হয়েছে।

 

 

 

এতে বলা হয়েছে, সম্মেলন আসন্ন বিধায় গঠনতন্ত্রের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে রাতের অন্ধকারে একের পর এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে কমিটি দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সম্মেলন থেকে ফেরার পথে মাদকসহ বিজয়নগর থানা পুলিশ ছাত্রলীগের এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দুজন সহসভাপতিকে গ্রেপ্তার করে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

 

 

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ আছে, আগস্টের শুরুতে পাঁচটি জেলা ইউনিটের নতুন কমিটি ও দুটি জেলা ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে মন্দির ভাঙার অপরাধে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত একজনকে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে পদায়ন করা হয়। বরগুনা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। যোগ্যদের মূল্যায়ন না করে নিজেদের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

 

 

আরও উল্লেখ করা হয়, চার বছর চার মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়নি এবং এ বিষয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তারা বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি। বর্তমান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মেয়াদ চার বছর তিন মাস পার হয়েছে। এ অবস্থায় নিজেদের কর্তৃত্ব ধরে রাখার জন্য এবং সংগঠনকে বিতর্কিত করতে সম্মেলন ছাড়া যাতে নতুন করে কোনো কমিটি করতে না পারে সে জন্য সংগঠনের অভিভাবকের কাছে দাবি জানানো হয়েছে।

 

 

ভারপ্রাপ্ত থেকে ভারমুক্ত হওয়ার পর তারা বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা।

 

উল্লেখ্য,  ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দরপত্র ঘিরে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরে সংগঠনের থাকা সহসভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয়কে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পরে ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দুই শীর্ষ নেতাকে ভারপ্রাপ্ত থেকে  পূর্ণ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।