স্পোর্টস ডেস্ক :: আগের খেলায় ২১০ রান করতে যে ইংলিশ ব্যাটারদের কষ্ট হয়েছে। তাসকিন, সাকিব, মিরাজ ও তাইজুলদের বিপক্ষে স্বচ্ছন্দে ও হাত খুলে খেলতে গিয়ে যেখানে ডেভিড মালান ছাড়া আর কেউ মাথা তুলে দাড়াতে পারেননি। জেসন রয়, জস বাটলার ও মইন আলিদের নাভিশ্বাস উঠেছে, সেই তারাই আজ রানের ফুলঝুরি ছুটিয়েছেন।
জেসন রয়, বাটলার ও মইন আলিরা একদম স্বচ্ছন্দে খেলেছেন শুক্রবার। তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের একজন বোলারও সে অর্থে সুবিধা করতে পারেননি। আগের ম্যাচের মত সমীহ জাগানো বোলিং দুরের কথা, মেহেদি মিরাজ (২/৭৩), তাসকিন (৩/৫৫), সাকিব ( ১/৬৪), মোস্তাফিজ (০/৬৩) এবং তাইজুল (১/৫৮)- সবাই মার খেয়েছেন।
৫ জনের ৪ জনই ওভার পিছু ৬ রানের বেশি দিয়েছেন। তাদের বিপক্ষে ইংলিশরা অনায়াসে চার ও ছক্কায় মাঠ গরম করার পাশাপাশি ৩২৬ রানের বিশাল পুঁজি গড়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলে দিয়েছেন।
টস জিতে জস বাটলারের দলকে আগে ফ্রি হয়ে ব্যাটিং করতে দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল? ইংলিশ অধিনায়ক বাটলার বলেছেন, তিনি টস জিতলে বোলিং করতেন। তবে কি আজ (শুক্রবার) ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল? সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবালের কাছেও এ প্রশ্ন রাখা হলো।
তামিমের সোজাসুজি জবাব, ‘আমি কখনোই প্রতিপক্ষ অধিনায়কের কথা নিয়ে মাথা ঘামাই না। ইংলিশ ক্যাপ্টেন টস জিতলে কি করতেন না তরতেন, সেটা তার ব্যাপার। আমি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটা আমাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। টসের সময় উইকেট দেখে একটু নরম ও চিটচিটে মনে হচ্ছিল। এ কন্ডিশনে আগে বোলিংটাই যুক্তিযুক্ত। তাই আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু আমাদের বোলাররা কন্ডিশন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পারেনি।’
মোস্তফিজকে উইকেট নেয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ : পেসার মোস্তাফিজুর রহমান আর ‘পঞ্চ পান্ডবের’ অন্যতম স্তম্ভ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না একদমই। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের অবস্থাতো খুবই খারাপ। শেষ ২০ ম্যাচে উইকেট পেয়েছেন মোটে ২৩টি। এর মধ্যে একবার ৪ উইকেট (১৭ রানে) আছে (২০২২ সালের ১০ আগস্টে, হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে)। আর ৪ বার তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন। ৮ খেলায় কোনই উইকেট পাননি।
শুক্রবারও পাননি। বুধবার প্রথম ম্যাচেও ইংলিশদের বিপক্ষে উইকেটশূন্য বাঁ-হাতি মোস্তাফিজ। যেখানে ইংলিশ পেসাররা প্রতি খেলায় ভাইটাল ব্রেক থ্রু দিচ্ছেন। স্যাম কারান সুযোগ পেয়ে শুক্রবার বাংলাদেশের ব্যাটিং মেরুদন্ড ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে (৪/২৯) দিয়েছেন।
সেখানে বাংলাদেশের প্রধান ফাস্টবোলার মোস্তাফিজ ২ খেলায় উইকেটই পাননি। শুধু এটাই নয়, শেরে বাংলায় শেষ ৫ ওয়ানডেতে মোস্তাফিজের উইকেট মোটে একটি। পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে খুবই খারাপ অবস্থা।
এমন অনুজ্জ্বল পারফরমেন্সের পরও কি মোস্তাফিজকেই খেলানো হবে? তিনি কি দলে অটো চয়েজ? আর কি কোন পেস বোলিং অপশন নেই? এবাদত আর হাসান মাহমুদরা কি বিবেচনায় আসতে পারেন না?
অধিনায়ক তামিমের কাছেও প্রশ্ন তোলা হলো, মোস্তাফিজ কি অটো চয়েজ? তামিম পরিষ্কার বলে দিলেন, ‘কেউই অটো চয়েজ নন। এমনকি অধিনায়ক হিসেবে আমিও না।’
মোস্তাফিজ সম্পর্কে তার মূল্যায়ন, এ বাঁ-হাতি পেসারের ডিফেন্সিভ স্কিল খুব ভাল । তবে তার উইকেট শিকারের স্কিলটা বাড়াতে হবে।
রিয়াদ ভাই এক সিরিজ আগেই ম্যাচ জিতিয়েছেন : অন্যদিকে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারছেন না। রান করলেও তার ইনিংসগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না তেমন। এমন পারফরমারকে নিয়ে অধিনায়ক হিসেবে তার মূল্যায়ন কি?
জানতে চাইলে তামিম বলেন, ‘আমি কারো ওপর দোষ চাপাই না। আর রিয়াদ ভাইতো শেষ সিরিজেও একটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস (৭ ডিসেম্বর ভারতের বিপক্ষে শেরে বাংলায় ৯৬ বলে ৭৭) উপহার দিয়ে মেহেদি মিরাজের সাথে সপ্তম উইকেট জুটিতে ১৪৮ রান তুলে দল জেতানো ভূমিকা রেখেছেন।’