মনজু বিজয় চৌধুরী: পসবিদ উন্নয়ন সংস্থার শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক তোফাজ্জল হোসেন এর বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিন্ন স্থান হতে ৯৩ জন সদস্যের নিকট থেকে টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পসবিদ উন্নয়ন সংস্থার পক্ষে ম্যানেজার কানু রায়।
বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) বিকেল ৪ ঘটিকায় মৌলভীবাজার জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পসবিদ উন্নয়ন সংস্থার প্রধান নির্বাহীর পক্ষে ম্যানেজার কানু রায় লিখিত বক্তব্যে পড়ে বলেন, আমি মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটি, ঢাকা থেকে ২০০৭ সালে হতে ক্ষুদ্রঋণ কার্য়ক্রম পরিচালনার জন্য ০০০২ সনদ গ্রহন করি। গত ২০/১০/ ২০২২ইং শাখা ব্যবস্থাপক হিসাবে তোফাজ্জল হোসেন, পিতা: আবুল মনসুর, গ্রাম:কৃষ্ণ নগর ডাক : অভয় পাশা , উপজেলা আটঘর , জেলা : নেত্রকোনা থাকে আমার পসবিদ উন্নয়ন সংস্থার শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেই। কিছুদিন পূর্ব থেকে তার কার্যক্রম সন্দেহ জনক হওয়ায় তাকে কানু রায় (বর্তমান ম্যানেজার) নামে একজনকে দিয়ে তাকে নজরদারিতে রাখি। নজরদারিতে দেখা যায় শাখা ব্যবস্থাপক তোফাজ্জল হোসেন আরও ২ জন কর্মী মিনতি রানী শীল, ট্যুয়েংকেল কর্মকার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিন্ন স্থান হতে ৯৩ জন সদস্যের নিকট হতে ১১ লাখ ২ হাজার ৩ শত টাকা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যাংকের নাম ভাঙ্গিয়ে পাঁচ থেকে পনেরো লক্ষ টাকা ঋণ তোলে দেবে বলে সঞ্চয় নেয়।
এছাড়া ও বাংলাদেশ ব্যাংক , কর্মসংস্থান ব্যাংক , যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে টাকা তোলে দেওয়ার নামে তাদের নিকট থেকে সঞ্চয়ের টাকা আত্মসাত করে।
এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় আমাদের দায়ের কৃত মামলা তদন্তাধিন আছে। তোফাজ্জল হোসেন সহ ২ জন কর্মকর্তা একে অন্যের যোগসাজশে সংস্থার সমিতি ও সদস্যদের নিকট থেকে সবুজবাগ সমিতি হইতে ৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, নওয়াগাও সমিতি হইতে ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, কাকিয়া বাজার সমিতি হইতে ৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকা, রাজ ঘাট মহিলা সমিতি হইতে ১ লাখ ২২ হাজার টাকা, খাই ছড়া সমিতি হইতে ২০ হাজার টাকা, কালিঘাট সমিতি হইতে ৩০ হাজার টাকা,ভাড়াউড়া সমিতি হইতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৫ শত টাকা,কুঞ্জবন সমিতি ৩০ হাজার টাকা মোট টাকা ১১ লাখ ২ হাজার ৩ শত আভ্যন্তরিন আউট আতœসাৎ করেছেন। ইদানিং আজাদুর রহমান নিকট থেকে ৬ জনকে ঋন দেওয়ার নামে ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, সায়েদ মিয়ার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা, সুমন মিয়ার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা, শাহীন মিয়ার নিকট থেকে ৪০ হাজার টাকা, সাইদুল মিয়ার নিকট থেকে ২০ হাজার টাকা, শাওন মিয়ার নিকট ২০ হাজার, রফিক মিয়ার নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যাংক থেকে পাঁচ থেকে পনেরো লক্ষ টাকা ঋণ তোলে দেবে বলে সঞ্চয় নেয়। এছাড়া ও বাংলাদেশ ব্যাংক , কর্মসংস্থান ব্যাংক , যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে টাকা তোলে দেওয়ার নামে সঞ্চয় নেয়। সে তাদেরকে তার নিজের একটি মোবাইল ফোন থেকে তাদেরকে বিশ্বাস করানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা আতাউর রহমান ও যুবউন্নয়ন ব্যাংকের কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান নামে ম্যাসেজ প্রেরন করে। পরবর্তীতে ২ মার্চ অফিস থেকে কোন প্রকার ছুটি না নিয়ে অফিস থেকে চলে যায়।
গত ৬ মার্চ রাতে আজাদুর রহমান আমার অফিসে এসে তারা যে প্রতারিত হয়েছেন সে বিষয় আমাকে অবগত করেন। আমি বিষয়টি শুনে তোফাজ্জল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। যোগাযোগ করতে না পেরে তাদেরকে বলি ম্যানেজারকে যেখানে পায় ধরে নিয়ে আসতে পারলে বিষয়টি আমি বুঝবো।
গত ১৩ মার্চ আমি খবর পাই ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেনকে আজাদুর রহমান সহ কয়েক জন মৌলভীবাজারে আটক করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় দেওয়া হয়েছে। আমি সেখানে যাই। তখন ম্যানেজার তোফাজ্জল হোসেন মৌলভীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জের সামনে প্রতারিত হওয়া গ্রাহকদের টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে। মৌলভীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জের পরামর্শ ক্রমে তাকে আমার পসবিদ অফিসে নিয়ে আসি। তাকে টাকার বিষয় সকলের সামনে জিজ্ঞাসা করি। তখন সকলের সামনে সে স্বীকার করে টাকা সে নিয়েছে। টাকা গুলো সে অফিসে জমা করেনি। রাত গভীর হয়ে যাওয়ায় এবং তার নিরাপ্তার জন্য অফিসের ভিতরে রেষ্ট রোমে যেখানে সে থাকতো সেখানে ব্যবস্থা করে তার নিরাপত্তার জন্য রোমের বাহির প্রধান গেইটে তালা মেওে ১ জন নিরাপত্তা কর্মী রেখে চলে যাই। পরে জানতে পারি সে ৯৯৯ এ ফোন করার ফলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ তাকে নিয়ে যায়। পরদিন প্রতারিত গ্রাহক সহ আমরা শ্রীমঙ্গল থানায় যাওয়ার পর শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে সমুহ টাকা আতœসাৎ করেছে। পরে শ্রীমঙ্গল থানায় লিখিত দেয় যে, টাকা ফেরৎ দেবে। মার্চ মাসের ৩০ তারিখ ও এপ্রিল মাসে ১৬ তারিখ টাকা ফেরৎ দেওয়ার অঙ্গিকার করে ২টি চেক দেয়। এরপর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
সম্মান্নিত সাংবাদিক ভাইরা, আমার পসবিদ উন্নয়ন সংস্থা দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর যাবৎ সুনামের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহ নির্মান প্রকল্প, ক্ষুদ্র ঋন প্রকল্প, ক্ষুদ্র উদ্দোগী প্রকল্প, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের প্রকল্পের কার্যক্রম করে আসছে। তোফাজ্জল হোসেন আমার সংস্থার ভাব মূর্তি সহ সুনাম ক্ষুন্ন করেছে। তার বিরুদ্ধে আমি আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।