মনজু বিজয় চৌধুরী: প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ছেলেকে মারধর করায় মামলা দায়ের করেছে ছেলে। রোববার (৫ফেব্রæয়ারী) মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমল আদালতে এ মামলা দায়ের করেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার পুরান বাজারের বাসিন্দা মো: আল ইকরাম নয়ন (১৮)। মামলার বিবরণে জানাযায়, অত্র মামলার আসামী মো: আব্দুর রউফ (৪৮) আমার পিতা ও ২নং সাক্ষী তার আমার গর্ভধারিনী মা। তাদের সংসার জীবনে অশান্তি ছাড়া আমার নজরে সামান্যতম শান্তির লেশমাত্র দেখিতে পাই নি।
আমার পিতা কারনে অকারনে আমার মাকে প্রায়শই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এক পর্যায়ে আমার পিতা আমার মা কে রেখে অনত্র বিবাহ করার গুঞ্জন সৃষ্টি হলে আমার মা তাতে প্রতিবাদ করায় মায়ের প্রতি অতিমাত্রায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন আমার পিতা। ঘটনার তারিখ ও সময়ে আমার পিতা ২য় বিবাহের কথা বললে আমার মা তাহা মানতে অস্বীকার করায় তিনি আমার মাকে হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে ধাওয়া করলে আমি তাতে বাধা প্রদান করি। বাধা প্রদান করায় আমাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ করিয়া ছেদ মারিলে উক্ত ছেদ আমার মাথার পিছনে ডান দিকে পড়িয়া মারাতœক কাটা রক্তাক্ত জখম হয় তাহাতে ৫টি সেলাই লাগে। পুনরায় তার হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ছেদ মারিলে উক্ত ছেদ মাথার সামনের বাম দিকে পড়ে মারাতœক কাটা রক্তাক্ত জখম হই এবং তাহাতে ১৬টি সেলাই লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় আমি মাটিতে পড়ে গেলে আসামী আমার বাম হাতের কব্জির সামন কাঠের উপরে রেখে হাতে থাকা ধারালো দা এর পিছন সাইট দিয়ে চিরজীবনের জন্য পঙ্গু করার উদ্দেশ্যে উপুর্যুপরি বাইরাইয়া ছেঁচা ও রক্তাক্ত জখম করে। তখন আমি ও আমার মা’র হাল্লা চিৎকারে স্বাক্ষীগন সহ অনেক লোকজন ঘটনাস্থলে আসিয়া ঘটনা দেখেন এবং আসামীর কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করিয়া শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়া গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আমাকে ভর্তি করাইয়া চিকিৎসা প্রদান করেন। যাহার রেজি: নং- ৩১২ তাং ২৬ জানুয়ারী হইতে ২৮জানুয়ারী তারিখ পর্যন্ত চিকিৎসা প্রদান করেন। আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করিলে আমি তথায় না গিয়ে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করি। তথায় ২৯ জানুয়ারী হইতে ২ ফেব্রæয়ারী পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলাম। যাহার রেজি: নং- ৬২৮৬। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপোষে নিস্পত্তি না হওয়ায় ন্যায় বিচারের আশায় অদ্য মাননীয় আদালতে হাজির হইয়া মামলা দায়ের করিলাম। আমার স্বাক্ষীগন ঘটনা প্রমান করিবেন। বাবার এমন কান্ড নিয়ে শ্রীমঙ্গলে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার জোয়ার। মামলাটি আমলে নিয়ে এফআইআর করার জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় প্রেরণ করা হয়েছে।