২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৌলভীবাজার

 প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের-২ যেতে রাস্তা ভাঙ্গা, পাহাড়ী ছড়ায় নেমে যেতে হয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে

 প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের-২ যেতে রাস্তা ভাঙ্গা, পাহাড়ী ছড়ায় নেমে যেতে হয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে

মনজু বিজয় চৌধুরী॥  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ডুলুছড়া এলাকায় আঁকাবাঁকা দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে যাতাযাতে স্থানীয়দের নানা চড়াই-উতরাই পোহাতে হয়। বিশেষ করে বালিশিরা পাহাড় ব্লকের ৫ থেকে ১১ বছর বয়সি স্কুল শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঘন জঙ্গলমাড়িয়ে, রেলিংবিহীন গাছের সাঁকো পেরিয়ে, পাহাড়ি ছড়ার পানি পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে যায় তারা। আর যেদিন ঝুম বৃষ্টি থাকে, সেদিন বাধ্য হয়েই তাদের স্কুল কামাই করা ছাড়া উপায় নেই। কিছুক্ষণ পর এ রকম আরো একটি ভাঙনের দেখা মিলল। সেখানেও গাছ ফেলে একইভাবে যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছে গ্রামবাসী। এরপর সামনের দিকে যেতেই নেমে যেতে হয় পাহাড়ি ছড়ায়। ছড়ার পানি মাড়িয়ে প্রায় দেড়শ গজ অতিক্রম করে আবার ডাঙ্গায় উঠতে হয়। ডাঙ্গায় পায়ে হাঁটার পথও সরু। পাশেই ডুলুছড়া ত্রিপুরা পল্লীর শ্মশান। এই সরু পথের দুপাশ ঘন জঙ্গলে আবৃত। কোথাও কোথাও ঘাস ও আগাছার কারণে রাস্তা দেখা যায় না। এরপরেই ডুলুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান।’
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ওই দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে তাদের শহরে কিংবা জুম চাষে যেতে হয়। এখানকার অসংখ্য লেবু, আনারসসহ অনান্য ফসলাদি পরিবহনে একমাত্র রাস্তা এটি। এখানে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ১১৩টি বাড়ি। তাদেরও এই রাস্তা ছাড়া চলাচলে বিকল্প কোনো উপায় নেই। তবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করায় শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকে অভিভাবকরা।
সরজমিন দেখা যায়, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে ওই রাস্তা দিয়ে ডুলুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাচ্ছে একদল শিশু শিক্ষার্থী। আশ্রয়ণের পাশে রাস্তাটির তিনটি স্থানে ভাঙন রয়েছে। একটি ভাঙন স্থানে গাছের টুকরা ফেলে সংযোগ দেয়া হয়েছে। ওই ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মনি আক্তার। ছেলেরা হাতল ছাড়া ওই গাছ দিয়ে পার হলেও ভয়ের কারণে মনি তা পারছে না। পরে সঙ্গী ইয়াছিন, রুহিন ও হাসিবুল মিলে মনিকে ওই গাছের ওপর দিয়ে ভাঙন পেরোতে সহযোগিতা করে।
ওই এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, ‘এটা আর কী এমন ভাঙা? কষ্ট করে একটু সামনের অবস্থাটা দেখে আসুন। শুধু এই রাস্তার কারণে বাচ্চাদের এখন স্কুলে দিতে ভয় হয়। পাহাড়ি এই জনবসতির সন্তানদের স্কুলগামী করতে হলে এই রাস্তাটি সংস্কার ও পাকা করা জরুরি। তবে এ ঘটনা নিত্যদিনের। কঠিন এই পথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন স্কুলে পৌঁছায়, তাদের মনে সে কি আনন্দ।
ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহিন বলেন প্রতিদিনই তাদের এই দুর্গম রাস্তা পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। প্রায় সময় পড়ে গিয়ে কাপড় ও বইপত্র ভিজে যায়।
ডুলুছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্জুন দত্ত জানান, তাদের স্কুলে যারা পড়ে, তাদের বেশির ভাগই পাহাড়ি জনবসতির শিক্ষার্থী। ডুলুছড়ার যে অংশে মুসলিম বসতি রয়েছে (পাহাড় ব্লক), সে পাশে রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে খুবই কষ্ট হয়। এখানে ভালো মানের রাস্তা হলে স্কুলে উপস্থিতি আরো বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণের ঘর পাওয়া সালমা বেগম বলেন, আমাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার রাস্তা নেই। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে যাওয়ার রাস্তাটিও ভাঙা।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সন্দ্বীপ তালুকদার জানান, এখানে আশ্রয়ণের ১১৩টি ঘর দেয়া হয়েছে। বর্ষায় এই রাস্তাটির কয়েক জায়গায় ভেঙে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এখানে কালভার্টসহ আরসিসি ঢালাই দিয়ে রাস্তা হবে।