৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফুলছড়া চা বাগানের মাঠে আয়োজন করা হয় এ ফাগুয়া উৎসব

মনজু বিজয় চৌধুরী॥ ফাগুয়া উৎসবটি ঘন্টা বাজিয়ে উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।
উৎসবে গেষ্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য দেন ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার নীরাজ কুমার জায়সওয়াল। তিনি বলেন, চা বাগানে পৌঁছাতেই কানে বাজলো পাহাড়িয়া মাদলের সুর। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, মধ্যবয়সী সবাই নাচছে গাইছে আনন্দ করছে। চা বাগানের মানুষের কৃষ্টি সংস্কৃতি এতো সুন্দর না দেখলে বুঝতে পারতাম না। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজলা চেয়ারম্যান ভানুলাল রায়, শ্রীমঙ্গল নির্বাহী অফিসার আলী রাজিব মাহমুদ মিঠুন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অর্ধেন্দু কুমার দেব প্রমুখ। দেশের চা বাগানগুলোতে নানান জাতিগোষ্ঠির বসবাস। ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে এসে আবাস গড়া চা শ্রমিকদের রয়েছে নিজেদের পৃথক ভাষা, তেমন রয়েছে পৃথক সংস্কৃতিও। ভাষা ও সংস্কৃতিতে একেকটি চা বাগান যেন একেকটি দেশ। তবে ফাল্গুনের ‘ফাগুয়া’ উৎসবে এসে সবাই এক হয়ে তারা মেতে ওঠেন রঙের উৎসবে।
শনিবার ১১ মার্চ বিকেলে ফুলছড়া মাঠে নানান বয়সী হাজারও নারী-পুরুষ আবির নিয়ে রঙের খেলায় মেতে উঠেন। সবুজ চায়ের বাগান রক্তিম হয়ে ওঠে রঙে রঙে। এ উৎসব চলবে মধ্যরাত পর্যন্ত।
আয়োজকেরা জানান, এই উৎসবে কেবল রঙের হলিই নয়, ছিল ভিন্ন সংস্কৃতির অন্তত ২০টি পরিবেশনা। এরমধ্যে পত্রসওরা, নৃত্যযোগি, চড়াইয়া নৃত্য, ঝুমরনৃত্য, লাঠিনৃত্য, হাড়িনৃত্য, পালানৃত্য, ডং ও নাগরে, ভজনা, মঙ্গলানৃত্য, হোলিগীত, নিরহা ও করমগীত উল্লেখযোগ্য।
চা জনগোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য জানান, শত দুঃখ-কষ্ট, শত অভাব-অনটনের মধ্যেও উৎসবের কয়েকটি দিন চা জনগোষ্ঠী পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে কাটানোর চেষ্টা করেন। শ্রমিকেরা এই আনন্দ ভাগাভাগি করেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে। দূর-দূরান্তের চা-বাগান থেকে মেয়েরা নাইওর আসে জামাইসহ।
আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব প্রাণেশ গোয়ালা বলেন, ৩য় বারের মতো এই আয়োজন হলেও আয়োজনটি জাতির জনককে উৎসর্গ করা হয়েছে। আশা করি পরবর্তী বছর আরও বড় আয়োজনে ফাগুয়া উৎসব করা হবে।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ফাগুয়া উৎসবটি আসলে ব্যতিক্রম। এমন অনুষ্টানে অংশগ্রহণ করে ভালো লাগছে। একসাথে নৃত্যগীতের এত বৈচিত্রপূর্ণ আয়োজন দেখে অন্য সবার মতো আমিও অভিভূত। আমার বিশ্বাস চা বাগানের সংস্কৃতি এই অঞ্চল তথা দেশের একটি সম্পদ। এটি চর্চা ও সুরক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। এই উৎসব অব্যাহত রাখতে হবে। এই সুন্দর সংস্কৃতি রক্ষার দায়িত্ব সবার। এটি যেন প্রত্যেকবার করা যায় সেজন্য আমরা কিছু পরিকল্পনা করছি।