১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাতীয়

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সব প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য সম্পদ : প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সব প্রজন্মের জন্য এক অমূল্য সম্পদ : প্রধানমন্ত্রী

ডায়াল সিলেট ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ। জাতীয় সংসদের ৫০তম বার্ষিকী (সুবর্ণ জয়ন্তী) উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া বিশেষ অধিবেশনের প্রাক্কালে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে যোগদানের পর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর ভাষণের ওপর দু’টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে তিনি একথা বলেন।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশ কীভাবে চলবে-তার দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। সুতরাং, এটি আমাদের জন্য একটি অমূল্য সম্পদ।’ দুটি বইয়ের একটি হলো সংসদে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সংকলন ও অন্যটি হলো ‘মুজিব বর্ষ’ উপলক্ষ্যে ডাকা সংসদের বিশেষ অধিবেশনে প্রদত্ত আইনপ্রণেতাদের ভাষণের সংকলন।

 

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের বই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য (এমপি), জনগণ ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশ ও এর জনগণকে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, ৫০ বছরে আমাদের প্রজন্ম বা পরবর্তী প্রজন্ম, প্রজন্মের পর প্রজন্ম বক্তৃতা জানবে এবং এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে বুঝার, জনগণের অবস্থা, তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, সবকিছু জানার সুযোগ পাবে।

 

প্রধানমন্ত্রী সংসদের বিশেষ অধিবেশনে দেয়া সংসদ সদস্যদের বক্তৃতার সংকলনের প্রশংসা করে বলেন, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এ ব্যাপারে তিনি স্পিকার, সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

 

সংবিধান প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত বাংলাদেশের সংবিধান বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সংবিধান কারণ এতে সর্বস্তরের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশের জাতির পিতা বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে গণপরিষদ গঠন করেন।

 

সরকার প্রধান বলেন, মাত্র নয় মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু বাঙ্গালি জাতিকে একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন-যা ইতিহাসের একটি বিরল ঘটনা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটিকে সম্ভবত গোটা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এর মাধ্যমে গরিব, অভাবী, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত করা হয়। তিনি আরো বলেন, ‘সংবিধানে সুবিধাবঞ্চিতসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সংবিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই নির্বাচনে সাতটি ছাড়া বাকি সব আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এই কার্য উপদেষ্টা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন।

 

‘সংসদে বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মুজিববর্ষ বিশেষ অধিবেশন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৫০ বছর পূর্তি ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’ উপলক্ষে ‘সংসদে বঙ্গবন্ধু’ ও ‘মুজিববর্ষ বিশেষ অধিবেশন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

 

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির দ্বাদশ বৈঠকে কমিটির সদস্য ও সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত হয়ে বই দু’টির মোড়ক উন্মোচন করেন। কমিটির সভাপতি জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

 

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ জয়ের পর ক্ষমতা না দেয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা অর্জিত হয়। স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই বঙ্গবন্ধু জাতিকে উপহার দেন সংবিধান। এরপর, ৭ মার্চ ১৯৭৩ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠান-এটা বিশ্বে বিরল।

 

বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এমপি, আমির হোসেন আমু এমপি, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ওবায়দুল কাদের এমপি, রাশেদ খান মেনন এমপি, হাসানুল হক ইনু এমপি, ডেপুটি স্পিকার মো. শামসুল হক টুকু এমপি, আনিসুল হক এমপি, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি, চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি।

 

বৈঠকে একাদশ জাতীয় সংসদের ২২তম ২০২৩ খ্রীষ্টাব্দের দ্বিতীয় এবং মহান জাতীয় সংসদের ৫০বছর পূর্তি ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’ উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা হয়। আজ ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় অধিবেশন শুরু হয়ে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে মর্মে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। ৭ এপ্রিল বিকাল ৩ টায় এবং ৮ ও ৯ এপ্রিল সকাল ১০টায় অধিবেশন শুরু হবে।

 

উল্লেখ্য, এ অধিবেশনে মহান জাতীয় সংসদের ৫০বছর পূর্তি ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আগামীকাল ৭ এপ্রিল বিকেল সোয়া ৩টায় স্মারক বক্তৃতা প্রদান করবেন।

 

এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ২০টি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৪৯টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৯টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে, বিধি-৭১ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ পাওয়া গেছে ৩৫টি। অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য ৮টি সরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া গেছে। গত অধিবেশনে অনিষ্পন্ন ৯টি বিলসহ ১৭টি বিলের মধ্যে কমিটিতে পরীক্ষাধীন ৭টি, পাসের অপেক্ষায় ১টি ও উত্থাপনের অপেক্ষায় ৯টি। বেসরকারি সদস্যদের বিলের কোন নোটিশ পাওয়া যায়নি।

 

বৈঠকে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আব্দুস সালাম সঞ্চালনা করেন। সংসদ সচিবালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।