আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ
ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য সুবিধা চলমান রাখতে আবারও লন্ডনে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। ঠিক কবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, পরিষ্কারভাবে তা জানানো হয় নি।তবে বলা হয়েছে, এর আগে চুক্তির বিষয়ে আরও এক সপ্তাহের মূল আলোচনা চলবে। এবার তারা ওই সব ইস্যুতে সমাধানে আসতে চায়, বারবারই যেসব ইস্যুতে অনেক ফারাক থেকে যাচ্ছে বলে দু’পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, চুক্তির বিষয় পরিষ্কার এবং তাই হবে। এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বরের পর যুক্তরাজ্য একটি একক বাজার ও আলাদা ইউনিয়ন হিসেবে যাত্রা করতে যাচ্ছে; এই বিষয়টিতেই বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি।
ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান সমন্বয়ক মাইকেল বার্নিয়ার এবং যুক্তরাজ্য অংশের লর্ড ফ্রস্ট সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে চলেছেন যেন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্রেক্সিটের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের মধ্যেই তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছতে পারে। এ সময়ের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছতে না পারলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম মেনে এই দুই অংশের মধ্যকার আমদানি-রফতানি বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে এবং ভোক্তাপর্যায়ে খরচ বাড়বে।
এবার দু’পক্ষই বলছে, তারা অনেক কিছুতেই ছাড় দিতে প্রস্তুত। যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বলা হয়েছে ‘যে কোনও মূল্য’ চুক্তির বিষয় পরিহার করতে।
রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা বরাবরই আমাদের বন্ধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে বেশ আগ্রহী। বড় আকারে চুক্তির বিষয়গুলোও বেশ পরিষ্কার; এখন দেখা যাক কতটুকু করতে পারি।
তার এই বক্তব্যের পর ইউরোপীয়ান কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন জানিয়েছেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সুনির্দিষ্ট কয়েকটি ইস্যুতে আলোচনায় রাজি হওয়ায় দু’পক্ষেরই বেশ অগ্রগতি হয়েছে।
যুক্তরাজ্য এবং ইইউর মধ্যকার একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় এখনো ব্যাপক মতপাথর্ক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসালা ভনডারলিয়ানের সাথে আজ শনিবার টেলিফোনে আলোচনার পর তিনি এ মন্তব্য করলেন।
মি.জনসন বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে তবে উভয় পক্ষের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং মৎস শিকার নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এদিকে উভয় পক্ষ আগামী সোমবার লন্ডনে আলোচনায় মিলিত হওয়ার ব্যাপারে একমত পোষণ করেছে।