সরেজমিনে গিয়ে প্রকল্পভুক্ত রাস্তাটি পুরাতন ইটসলিংকৃত দেখা গেছে। সম্মুখের রাস্তা কাচা (মাটির রাস্তা) থাকলেও সেখানে সংস্কার কাজ হতে দেখা যায়নি। তবে প্রকল্প বর্হিভূত দূরবর্তী একটি পুরাতন ইটসলিং রাস্তার পুরাতন ইট তুলে সামান্য নতুন ইট মিশিয়ে সংস্কার কাজ হতে দেখা গেছে। এলাকার বাসিন্দা প্রনথ বিশ্বাস, শ্রীমন্ত দাস, ফয়সল আহমদ, রন বিশ্বাস, অনি রুদ্র পাল, সরজ বিশ্বাস প্রমুখ জানান, ইউপি সদস্য পুরাতন ওই রাস্তার ইট তুলে মাঝে মাঝে কিছু নতুন ইট লাগিয়েছেন। পুরাতন রাস্তার সংস্কার নাকি নতুনভাবে ইটসলিংয়ের কাজ এসেছে মেম্বার তা জানাননি। তাদের ধারণা এখানে সর্বোচ্চ ৩০/৩৫ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। প্রকল্প কমিটির বেসরকারি শিক্ষক প্রতিনিধি শৈলেন্দ্র দাস জানান, প্রজেক্ট কমিটির কাগজে তিনি স্বাক্ষর করেননি। বিকাশ মেম্বার তার স্বাক্ষর জাল করে বরাদ্দ উত্তোলন করেছে। রাস্তায় কোন কাজও করেনি।
বর্নি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এনাম উদ্দিন জানান, তিনিও সরেজমিনে দেখেছেন ইউপি মেম্বার প্রকল্পভুক্ত রাস্তায় একটি ইটও ফেলেননি। নদীর পাড়ের এই কাচা রাস্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে রাস্তাটি জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠে। এজন্য মন্ত্রী বরাবর আবেদন করে ইটসলিংয়ের জন্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার চাল বরাদ্দ আসে। কিন্তু ইউপি মেম্বার ওই রাস্তায় একটি ইটও ফেলেনি। এতে সরকারের দুর্নাম হচ্ছে।
ইউপি সদস্য ও প্রকল্প কমিটির সভাপতি বিকাশ দাস জোর দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট রাস্তায় তিনি সঠিকভাবে কাজ করেছেন। কাজ না করলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাকে বিল দিলেন কেন। কোন অনিয়ম করলে পিআইও তার বিরুদ্ধে মামলা করুক।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. উবায়েদ উল্লাহ খান জানান, অন্য একটি রাস্তার ইটসলিং কাজের ছবি এবং ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবের প্রত্যয়ন জমা দিয়ে প্রকল্প কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য বিকাশ দাস বরাদ্দ উত্তোলন করেছেন। সংশ্লিষ্ট রাস্তায় কাজ না করার এবং প্রকল্প বর্হিভূত অন্য পুরাতন একটি রাস্তায় সামান্য মেরামত কাজ করার বিষয়টি তার নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে তাকে (ইউপি সদস্য) শোকজ করা হয়েছে।
