১৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৌলভীবাজারে বন্যা অবস্থা অবনতি নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে

মনজু চৌধুরী: মৌলভীবাজারে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ পানিবন্ধী রয়েছেন। এদিকে হাওড়াঞ্চলের মানুষেরা রয়েছেন চরম দুর্ভোগে। এই দিকে জেলার সব কটি নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।
বন্যায় জেলায় প্রায় ৫০টি ইউনিয়নের ৩২৫ গ্রামের প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ পানিবন্ধী রয়েছেন। বন্যায় মৌলভীবাজার জেলায় ১১৬ টি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা ৪২টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবমিলিয়ে মোট ১৫৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
ভারীবৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের কারণে কুলাউড়া-বড়লেখা আঞ্চলিক মহা সড়কের বিভিন্ন স্থান বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে। এদিকে বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার নতুন করে আরও ৮০টি গ্রাম বানের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ আছে অর্ধ শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জুড়ি উপজেলার সাদিপুর এলাকার নিতেশ মালাকার জানান, ঘরের ভেতর কোমর পানি। বাড়ির মানুষদের চাবাগানে পাঠিয়ে দিয়েছি। ঘরের গবাদিপশু নিয়ে বাঁধের উপর যাচ্ছি। এইদিকে মনু নদের চাঁদনীঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার নীচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও শহরবাসীদের উদ্বেগের উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে। জেলায় বন্যাতদের জন্য খোলা হয়েছে ৯৮টি আশ্রয় কেন্দ্র। এর মধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। আর বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষের পাশাপাশি আশ্রয় নিয়েছে সহস্রাধিক গবাদি পশু। এদিকে বেশ কিছু পরিবার মৌলভীবাজার ঢাকা মহাসড়কের পাশে অস্থায়ী ছাউনী দিয়ে অবস্থান করায় দূর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে ওই পরিবার গুলোর শিশুরা।
জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ হাসান জানান, বন্যার্ত মানুষের জন্য পর্যপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। তবে জেলার বড়লেখা, জুড়ি, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার নতুন করে আরও কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি।