মনজু বিজয় চৌধুরী॥ শেকড়ের গান তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে মৌলভীবাজার ‘তরুণ সনাতনী সংঘ (টিএসএস) এর সাংস্কৃতিক শাখা ডিভোটি’ এর আয়োজনে সঙ্গীতের রিয়্যালিটি শো ‘টিএসএস সুপার সিঙ্গার ২০২৩’ প্রথম আসরের আয়োজন করা হয়েছে। গত ২৮শে মার্চ থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৩ মাস যাবত চলে রিয়্যালিটি শো -এর বিচারকার্য। সেখানে ৪শ প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে সেরা ১১ জন প্রতিযোগী সরাসরি গ্র্যান্ড ফিনালে অংশগ্রহণের সুযোগ পান।
গতকাল শুক্রবার বেঙ্গল কনভেনশন সেন্টারের কনফারেন্স রুমে বিকাল ৩ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত চলে সেমিফাইনালে অংশগ্রহণকারী ২৩ জন প্রতিযোগীদের সঙ্গীত যুদ্ধ। সেখান থেকে বিচারকরা ২৩ জন প্রতিযোগী থেকে সেরা ১১ জন প্রতিযোগীকে বাচাই করেন গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য। সেরা ১১ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে আগামী জুন মাসের শুরুতে ‘টিএসএস সুপার সিঙ্গার ২০২৩’ এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হবে।
টিএসএস সুপার সিঙ্গার ২০২৩ -এর প্রথম আসরে প্রতিযোগীরা ধর্মীয় সঙ্গীত, ভজন, কীর্তন, ভক্তিগীতি, শ্যামা সঙ্গীত ও বিভিন্ন গীতিকারের প্রার্থনা সংগীতের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। রিয়্যালিটি শো -এর উপস্থাপনায় ছিলেন বিশ্বজিৎ দত্ত।
এই রিয়্যালিটি শো’র মূল বিচারক হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী তৃপ্তি চক্রবর্তী, ড. অনুপম কুমার পাল, প্রদীপ চন্দ্র নাহা, গোপন চক্রবর্তী, জয়দীপ রায় রাজু, মন্টি সিনহা, ইপা বড়ুয়া, সুমিত পাল, নিউটন বিশ্বজিৎ দেব, প্রীতম দত্ত সজীব, নান্টু দাশ, এবং অতিথি বিচারক হিসাবে ছিলেন ডাক্তার বিনেন্দু ভৌমিক, অমল দেব ও সৈয়দ মুনিম আহমেদ রিমন।
টিএসএস সুপার সিঙ্গার ২০২৩ -এর আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব প্রীতম দত্ত সজীব শেয়ার বিজকে বলেন, ‘টিএসএস সুপার সিঙ্গার ২০২৩, রিয়্যালিটি শো আমরা শুরু করেছি। সিলেট বিভাগের মধ্যে এটা প্রথম আয়োজন। শেকড়ের যে, গানগুলো আছে, সেগুলোকে আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। যারা তরুন সমাজ আছে, তারা যাতে এই গানগুলোর চর্চাটা বাড়িয়ে দেয়, এবং চর্চা করতে পারে। সে জন্যই আমরা এ রিয়্যালিটি শো-এর আয়োজন করেছি। প্রথম রাউন্ডে ৪শ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছে। তারপর সেকেন্ড রাউন্ডে বাচাই করে আমরা এনেছি ৮৬ জনকে। কোয়াটার ফাইনালে ছিল ৪৩ জন প্রতিযোগী। এই ৪৩ জন প্রতিযোগী থেকে সেমিফাইনালের জন্য ২৩ প্রতিযোগীকে আমরা বাচাই করি।’
তিনি বলেন, ‘সেমিফাইনালের ২৩ জন প্রতিযোগি থেকে গ্র্যান্ড ফিনালে অংশগ্রহণের জন্য সেরা ১১ জন প্রতিযোগিকে বাচাই করেন বিচারক মন্ডলী। গ্র্যান্ড ফিনালে এই সেরা ১১ জন প্রতিযোগি থেকে আমরা ‘টিএসএস সুপার সিঙ্গার ২০২৩’ এর চ্যাম্পিয়ন বাচাই করবো। এটাই হচ্ছে আমাদের মূল লক্ষ্যে। সিলেট বিভাগ যেনো সঙ্গীতে আরো বেশী সমৃদ্ধশালী হয়, সেটাই আমাদের প্রয়াস। আমরা কিন্তু ভাবিনি এই পর্যায়ে এতটুকু উৎসাহ পাবো, দেশ এবং দেশের বাহিরে থেকে অনেকেই আমাদেরকে উৎসাহ দিয়েছেন।’