আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: যুক্তরাজ্যের রাজ-অভিষেকের দিন বিতর্কিত হীরা কোহিনূরের মুকুট পরবেন না রাজা চার্লসের স্ত্রী রানি ক্যামিলা। রাজপরিবারের সদর দপ্তর বাকিংহাম প্যালেস মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২২ সালে ব্রিটেনের রানী ২য় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই রাজ সিংহাসনে বসেন তার বড় ছেলে চার্লস; সেই সঙ্গে দেশের রানি হন তার স্ত্রী ক্যামিলা। তবে এখনও রাজ-অভিষেক হয়নি তাদের। চলতি বছর ৬ মে এই অভিষেক অনুষ্ঠান হওয়ার কথা আছে।
১০৫ ক্যারেটের কোহিনূর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হীরা। ঊনবিংশ শতাব্দিতে রানি ভিক্টোরিয়ার আমলে তৎকালীন অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে পাচার হয়ে যায় এই হীরা, ঠাঁই পায় রানির মুকুটে। তারপর থেকে ব্রিটেনে যারা রানি হয়েছেন, রাজ অভিষেকের সময় মাথায় কোহিনূরের মুকট পরা হয়ে উঠেছিল সাধারণ রীতি।
এদিকে, ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পর থেকেই যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছে এই হীরা ফেরত চেয়ে আসছে ভারত। একই দাবি বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানও।
বাকিংহাম প্যালেসের মঙ্গলবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৬ মে রাজ অভিষেকের দিন কুইন মেরি মুকুট পরবেন রানি ক্যামিলা। এই মুকুটটির শীর্ষে কালিনান ৩, ৪ এবং ৫— তিনটি হীরা রয়েছে।
ঠিক কী কারণে রানি অভিষেকের দিন কোহিনূরের মুকুট পরবেন না তা স্পষ্ট করেনি বাকিংহাম প্যালেস। বিবৃতিতে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘রানি নিজের ইচ্ছেতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
উল্লেখ্য, এর আগে বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, কোহিনূর হিরাটির উপর একমাত্র ভারতের অধিকার রয়েছে। তাই ব্রিটিশ রাজার রাজ্যাভিষেকে এই হিরা ব্যবহার করা উচিত নয়। রাজ্যাভিষেকের সময়ে মুকুটে কোহিনুর রত্নের ব্যবহার ঔপনিবেশিক অতীতের বেদনাদায়ক স্মৃতি ফিরিয়ে আনবে। পাঁচ থেকে ছয় প্রজন্ম ধরে ভারতীয়রা একাধিক বিদেশী শাসনের অধীনে ছিল। কিন্তু, বর্তমানে অধিকাংশ ভারতবাসীর মনে সেই পরাধীনতার স্মৃতি নেই বললেই চলে। কিন্তু, নতুন রানী ক্যামিলার রাজ্যাভিষেকের সময় কোহিনূর হিরা ব্যবহার করা হলে তা ভারতীয়দের ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।
বিজেপির পক্ষ থেকে এই সতর্কতা জারি করার পরই, রাজ্যাভিষেকে কোহিনূর ব্যবহার করা না করার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়েছে। অতি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব সুয়েলা ব্রেভারম্যান ভিসাপুরিয়ে যাওয়ার পরও যুক্তরাজ্যে থেকে যাওয়া ভারতীয়দের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার দাবি তুলেছেন। ব্রেভারম্যানের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ নয়াদিল্লি। ফলে, ভারত ও যুক্তরাজ্যের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যত নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। তাই এই অবস্থায় রাজ্যাভিষেকে কোহিনূর হিরা-খচিত মুকুটটি ব্যবহার করে নতুন করে দূরত্ব বাড়াতে চাইছে না ব্রিটেন।