ডায়ালসিলেট::
সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিহত রায়হান আহমদের (৩৪) স্বজনরা আজ সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাথে দেখা করবেন। হত্যা মামলার অগ্রগতি জানতে রায়হানের পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী মন্ত্রীর সাথে দেখা করবেন।
জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর তার জামাতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী মফজ্জিল আলী দেশে ফিরেছেন। রায়হানের চাচা জয়নুল কুদ্দুছও আমেরিকা থেকে ফিরেছেন ৪ নভেম্বর। এই দুই স্বজন ও কাউন্সিলর মো. মখলিছুর রহমান কামরান ও স্থানীয় মুরব্বী শওকত হোসেন ঢাকায় গিয়ে সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করবেন। তারা রায়হান হত্যা মামলার অগ্রগতিসহ সকল দোষীকে দ্রæত গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাবেন।
রায়হানের মা সালমা বেগম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অসুস্থ থাকায় তিনি ঢাকায় যাচ্ছেন না। আমেরিকা ফেরত তার দেবর ও লন্ডন থেকে ফেরত মেয়ে জামাইসহ এলাকার কাউন্সিলর ও এক মুরব্বী
ঢাকা যাবেন। তিনি জানান, রায়হান হত্যাকান্ডের মুল হোতা এসআই আকবর এখনো গ্রেফতার হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর রাতে নগরীর আখালিয়া এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদ (৩৪) কে ধরে নিয়ে আসে বন্দরবাজার থানা পুলিশ। ওই রাতে ফাঁড়িতে তার ওপর নির্যাতন চালায় পুলিশ এবং তাকে ছেড়ে দিতে টাকা দাবি করে। ভোরে অপরিচিত একটি মোবাইল থেকে রায়হানের ফোন পায় তার পরিবার। তাতে ফাঁড়ি থেকে তাকে ছেড়ে দিতে টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানান রায়হান।
নির্যাতনের পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ১১ অক্টোবর সকালে রায়হান আহমদকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মারা যান তিনি। পুলিশ দাবি করে, রায়হানকে ছিনতাইকারী সন্দেহ করে জনতা গণপিটুনি দেয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সিসিটিভি ফুটেজে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি। এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি। মামলার পর এর তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। এর জেরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়াকে বদলী করা হয়েছে।
এ/