১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিপিএল ফাইনালে মাশরাফির সিলেট

স্পোর্টস ডেস্ক :: ফাগুনের সন্ধ্যায় মিরপুর শেরে বাংলায় রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। ক্ষণে ক্ষণে বদল হলো রং। স্নায়ু আর দক্ষতার অসাধারণ প্রদর্শনীতে রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে বিপিএলের ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলল সিলেট স্ট্রাইকার্স। ১৬ ফেব্রুয়ারি তারা কুমিল্লার বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে। অথচ রনি তালুকদারের ব্যাটে রংপুর রাইডার্সকেই সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন প্রায় সবাই। কিন্তু লড়াই শেষে ১৯ রানে হেরে বিপিএল থেকে বিদায় নিল নুরুল হাসান সোহানের দল।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রংপুর রাইডার্স। তানজিম হাসান সাকিবের করা দ্বিতীয় ওভারে দলীয় ৩ রানে এলবিডাব্লিউ হয়ে যান স্যাম বিলিংস (১)। রংপুরকে কোয়ালিফায়ারে তোলার হিরো শামীম পাটোয়ারী আজ ১১ বলে ১৪ রান করে রুবেল হোসেনর শিকার হন। চারে নেমে ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান। এই ক্যারিবিয়ানের ১৪ বলে ২ চার ৪ ছক্কায় ৩০ রানের ইনিংস থামানা লুকি উড। ওপেনার রনি তালুকদার ব্যক্তিগত ২৯ রানে জীবন পান। মাশরাফির বলে সহজ ক্যাচ ছাড়েন জাকির হাসান। ১০ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৩ রান তুলে ফেলে রংপুর।
একাদশ ওভারে এলবিডাব্লিউ ঘোষিত হয়েও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান রনি। এরপর হাত খোলেন। ৪০ বলে তুলে নেন ফিফটি। অধিনায়ক নুরুলের সঙ্গে তার জুটি জমে ওঠে। রুবেলের করা ১৫তম ওভারে দুজনে মিলে নেন ১৭ রান। শেষ তিন ওভারে রংপুরের প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। এসময় হুট করে মাঠে নামেন মুশফিক। আম্পায়ারের সঙ্গে দুই দলের কথোপকথনে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। এতক্ষণ কিপিং করা আকবর আলী বাইরে চলে যান। কিপিং গ্লাভস ওঠে জাকিরের হাতে। মুশফিক সাধারণ ফিল্ডার হিসেবে মাঠে থাকেন।
১৮তম ওভারের প্রথম বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ২৪ বলে ৩৩ রান করা সোহান। একই ওভারের চতুর্থ বলে উইকেটকিপার জাকিরের সৌজন্যে রানআউট হয়ে যান রনি তালুকদার। তার ৫২ বলে ৬৬ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ২টি ছক্কা। তানজিম সাকিবের করা ওভারটিতে আসে মাত্র ২ রান। ম্যাচ জমে ওঠে। পরের ওভারে জোড়া শিকার ধরেন লুকি উড। ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মেহেদি (২) আর ডিজে ব্র্যাভো (০)। শেষ ওভারে প্রয়োজন হয় ২৮ রানের। এই অংক আর মেলাতে পারেনি রংপুর। ১৯ রানের জয়ে ফাইনালে উঠে যায় সিলেট স্ট্রাইকার্স।
মিরপুর শেরে বাংলায় মঙ্গলবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ উইকেটে ১৮২ রান তোলে সিলেট স্ট্রাইকার্স। দারুণ শুরু এনে দেন তৌহিদ হৃদয় আর নাজমুল হোসেন শান্ত। পাওয়ারপ্লেতে আসে ৪৪ রান। মেহেদি হাসানের করা নবম ওভারে ভাঙে ৬৫ রানের ওপেনিং জুটি। ৩০ বলে ৫ চার এক ছক্কায় ৪০ রান করে লেগ বিফোর হন শান্ত। তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে অধিনায়ক মাশরাফি করেন ১৬ বলে ৩ চার ১ ছক্কায ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস।
আরেক ওপেনার তৌহিদ হৃদয় ২৫ বলে ২৫ রান করে হাসান মাহমুদের শিকার হন। ১৩ বলে ১৬ রান করে ঝড়ের আভাস দিয়েছিলেন জাকির হাসান। তবে তাকে থামিয়ে দেন দাসুন শানাকা। ফিরতি ওভারে এসে তুলে নেন ৬ বলে ১৫ করা রায়ান বার্ল। মুশফিক আজও ব্যর্থ। ৫ বলে করেন ৬ রান। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন থিসারা পেরেরা। ইনিংসের শেষ ওভারে রানআউট হওয়ার আগে এই শ্রীলঙ্কানের সংগ্রহ ১৫ বলে ১ ছক্কায় ২১ রান। জর্জ লিন্ডে ১০ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ২১* রানে অপরাজিত থাকেন। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ এবং দাসুন শানাকা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড

দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার, ঢাকা (টস-রংপুর/বোলিং)
সিলেট স্ট্রাইকার্স-
১৮২/৭, ২০ ওভার (শান্ত ৪০, মাশরাফি ২৮, লিন্ডে ২১*, হাসান ২/৩৪, শানাকা ২/৪৫, মাহেদি ১/২৫)
রংপুর রাইডার্স-
১৬৩/৮, ২০ ওভার (রনি ৬৬, নুরুল ৩৩, পুরান ৩০, উড ৩/৩৪, সাকিব ২/১৯, রুবেল ২/৪২)
ফলাফল:
সিলেট ১৯ রানে জয়ী