৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৌলভীবাজার

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে চাঞ্চল্যকর টমটম চালক হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

র‌্যাব-৯ এর অভিযানে চাঞ্চল্যকর টমটম চালক হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

মনজু বিজয় চৌধুরী॥ র‌্যাব-৯ এর অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানার চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস টমটম চালক হত্যা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার করেছে।

র‌্যাব জানায়, মোঃ আয়াত আলী (২৪) পেশায় একজন টমটম চালক ছিলেন। সুরাবই গ্রামের আমির হোসেনের নিকট থেকে ভাড়ায় টমটম নিয়ে টমটম চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। মোঃ আয়াত আলী প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৩ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখ সকাল বেলা টমটম নিয়ে লাদিয়া টু সুতাংবাজার রাস্তায় টমটম চালানোর জন্য যায়।

ওইদিন সর্বশেষ রাত আনুমানিক ২০.৩০ ঘটিকার দিকেও ভিকটিমকে টমটম চালাতে দেখা যায়। প্রতিদিনের ন্যায় রাত আনুমানিক ২১.০০ ঘটিকার সময় মালিকের টমটম জমা দিয়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় ভিকটিমের পরিবার টমটমের মালিক আমির হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে, ভিকটিম তখনও টমটম জমা করে নাই এবং ভিকটিম কোথায় আছে তাও জানেন না।

তারপর থেকে উক্ত ভিকটিমের ভাইসহ পরিবারের অন্য লোকজন তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করতে থাকে। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে, গত ২৬ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখ বিকাল আনুমানিক ১৪.৩০ ঘটিকার সময় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারে, ভিকটিমের মৃতদেহ শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন ০৭নং নুরপুর ইউপিস্থ পুরাসুন্দা সাকিনস্থ বড়বাড়ি কবরস্থান সংলগ্ন বাঁশবাগানের একটি গর্তের ভিতরে পড়ে আছে। উক্ত সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের ভাইসহ পরিবারের অন্যান্য লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমের মৃতদেহ দেখতে পায় এবং সনাক্ত করে।

পরবর্তীতে, স্থানীয় লোকজন থানায় সংবাদ দিলে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরণ করেন। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করার সময় উক্ত ভিকটিম আয়াত আলী এর মুখমন্ডল পোড়া জখম, গলার বাম পাশে ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় ভিকটিমের বড় ভাই মোঃ বিল্লাল মিয়া @ মরম আলী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গত ২৭/০৩/২০২৩ ইং তারিখ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি মিডিয়ার মাধ্যমে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার ঝড় তুলে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আসামীদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে র‌্যাব-৯ তার গোয়েন্দা তৎপরতা ব্যাপকভাবে জোরদার করে।

এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৯ উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জএর একটি আভিযানিক দল গত ২৮ মার্চ ২০২৩ ইং তারিখ হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ ও মাধবপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচানা করে হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানার মামলা নং-০৭, তারিখ-২৭/০৩/২০২৩খ্রিঃ ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড এর অজ্ঞাতনামা আসামী ১। মিঠুন মিয়া (২৪), পিতা-আলমগীর হোসেন, মাতা-রোকেয়া খাতুন, সাং-পুরাসুন্দা, থানা-শায়েস্তাগঞ্জ, জেলা-হবিগঞ্জ’কে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সনাক্ত ও গ্রেফতার করে।

ছিনতাইকৃত টমটমআসামী মিঠুন মিয়া অপর আসামী ভাঙ্গাড়ি ব্যবসায়ী ২। ওসমান (৩৫), পিতা-জমশের আলী, মাতা-জাহেদা বেগম, সাং-পূর্ববাগ, থানা-নাছিনগর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়ীয়া এর কাছে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যায় এবং ব্যাটারীসহ টমটমটি বিক্রি করে। পরবর্তীতে, বিক্রয়কৃত টমটমের ব্যাটারীসহ ০৫ (পাঁচ) টি ব্যাটারী উদ্ধার করা হয় এবং টমটম গাড়ির বাকি অংশ উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামী মিঠুন মিয়া ও ওসমানকে জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত কাজে জড়িত সন্দেহভাজন আরো তিনজনকে উদ্ধারকৃত টমটমের ব্যাটারীসহ শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা অন্যান্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে র‌্যাব-৯, সিলেট এর গোয়েন্দা তৎপরতা এবং চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামী ও উদ্ধারকৃত আলামত হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় হস্তান্তরকরা হয়েছে।