২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শ্রীমঙ্গলের রিসোর্টে পর্যটককে খুন করলো কে?

ডায়াল সিলেট ডেস্ক :: শ্রীমঙ্গলে লেমন গার্ডেন রিসোর্ট থেকে উদ্ধার করা মরদেহের বিষয়টি এখনো রহস্যেঘেরা রয়েছে। এটা কি হত্যাকাণ্ড না কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো তা অজানা রয়ে গেছে। এ ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

তবে পুলিশ ধারণা করছে, ব্যবসায়িক লেনদেন বা নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। পলাতক আসামিরা ধরা পড়লে প্রকৃত সত্য জানা যাবে।

 

এদিকে, সোমবার সকালে নিহত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী মুন্নী বেগম বাদী হয়ে পলাতক আসামিদের বিবাদী করে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

একটি সূত্র জানায়, কক্ষে ৫ জন থাকলেও দুইজনের নাম রিসোর্টে রেজিস্ট্রার বুকে এন্ট্রি করা হয়। কারণ রাব্বী শ্রীমঙ্গলের অন্য একটি নামীদামি রিসোর্টে চাকুরি করার সুবাদে পূর্বপরিচিত ছিলো। ফলে বাকি দুইজনের নাম পরিচয় রিসোর্ট কতৃপক্ষ বা পুলিশ জানতে পারেনি।

 

জানা যায়, ২৫ আগস্ট সকাল প্রায় পৌণে ৮ টার দিকে চাঁদপুরের শাহারাস্তি উপজেলার খাসেরবাড়ি গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে মো. নুরুল আমিন রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আরও মধ্যবয়সী ৩ জন পর্যটক শহরতলীর ডলুবাড়ি এলাকার হোটেল লেমন গার্ডেন রিসোর্ট-এর বৃষ্টি বিলাসের রুম নং-০৫ এ উঠেন। পরবর্তীতে রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল স্টাফ সহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট রুমে চেকিংয়ের জন্য গেলে ওই রুম তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এতে তার সন্দেহ হলে ডাকাডাকির একপর্যায়ে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানালে হোটেল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশকে জানায়।

 

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনজুর রহমানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

 

পুলিশের একটি সূত্রের ধারণা, নুরুল আমিন রাব্বি তার সঙ্গীয় অজ্ঞাতনামা ২ জনসহ ২৬ আগস্ট রাত আনুমানিক রাত ৮টা থেকে পরদিন ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনো এক সময় ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে কাঠের বড় টুকরো দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়।

 

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন সর্দার মামলা দায়েরের বিষয়টা নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল রিপোর্টের পর লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা কি- তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।