৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৌলভীবাজার

শ্রীমঙ্গলে প্রবীণ রাজনীতিবিদ রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী’র ৮৩তম জন্মদিন পালন

শ্রীমঙ্গলে প্রবীণ রাজনীতিবিদ রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী’র ৮৩তম জন্মদিন পালন
ডায়ালসিলেট ডেস্ক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বাবু রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী’র (রামেন্দ্র বাবু) এর ৮৩তম জন্মদিন পারিবারিকভাবে পালন করা হয়েছে।
বুধবার ১২ই এপ্রিল রাতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্বাশা আবাসিক এলাকার নিজ বাসায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাবু রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী’র ৮৩তম জন্মদিন দুই ছেলে, নাতি নাতনীর ও আত্মীয় স্বজনদের উপস্থিতিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে কেক কেঁটে পালন করা হয়।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানতে এসময় শ্রীমঙ্গলের দি বাডস্ রেসিনসিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক জয়া নন্দী ও সংবাদকর্মী রুবেল আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার জেলার রাজনীতি, সাংস্কৃতি এবং সাংবাদিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বাবু রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী। জেলার বাম রাজনীতির এই পুরোধা ব্যক্তিত্ব ১৯৪০ সালের ১২ এপ্রিল তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমার শ্রীমঙ্গল থানার নোয়াগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা যতীন্দ্র মোহন দত্ত চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার এবং মাতা বিন্দুবাসিনী দত্ত চৌধুরী একজন সুগৃহিণী। তাঁর পৈত্রিক নিবাস সিলেট জেলার ঢাকাদক্ষিণের দত্তরাইল গ্রামে। তিনি শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং ১৯৫৬ সালে মৌলভীবাজার কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট ও বিকম পাস করেন। পরে বিএড ও পাস করেন। বাল্যকাল থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে তিনি অনুরাগী ছিলেন। পাক আমলে তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের প্রখ্যাত ছাত্রনেতা রাসেন্দ্র দত্ত ১৯৬২ সালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ও শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী যে ছাত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে তার সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি এই আন্দোলনের একজন প্রথম সারির নেতা ছিলেন। ছাত্রজীবনে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। পরে ১৯৫৭ সালে মৌলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপ গঠিত হলে তিনি এতে যোগদান করেন। বাম রাজনীতিকে এতদ্বাঞ্চলে একটি শক্ত ভীতের উপর দাঁড় করাতে তিনি যে শ্রম দিয়েছেন তার জন্য তিনি অত্র এলাকায় বাম রাজনীতির একজন পুরধা হিসেবে পরিচিত। তিনি ছিলেন ছাত্রদের ১১-দফা কর্মসূচির আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন ও ১৯৬৩ সালে বালিশিরা পাহাড় আন্দোলনের একজন অন্যতম সংগঠক।
১৯৬৬ সালে ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ পাক সরকার বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলেনেও ছিল তাঁর বিশাল অবদান। একই বছর তিনি পাকিস্তান ভাঙ্গা তথা জয়বাংলা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে গ্রেফতার হন। ঐ সময়ে তাঁর সাথে তাঁর দলের অপর জাদরেল বাম নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রলীগের এম এ রহিম ও ছাত্রলীগ নেতা এস এ মুজিব গ্রেফতার হন। পাক সরকার তাদেরকে মৌলভীবাজার জেলে প্রেরণ করে। কিন্তু হাজারো জনতার তুুমুল আন্দোলনের ফলে সরকার তাদেরে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবেও কাজ করেন। মহামান্য হাইকোর্ট ন্যাপ, সিপিবি ও ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর ২৩৬৪ জনকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে সকল সুযোগ সুবিধা দেয়ার নির্দেশ দেয়া সত্ত্বেও বিরোধী রাজনীতি করার কারণে তাঁর নাম আজও তালিকাভুক্ত হয়নি। ‘৭২ থেকে শুরু করে ‘৯০ পর্যন্ত সকল সরকারের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী কর্তৃক তিনি আক্রমণের শিকার হন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর রাজনৈতিক কারণে তাঁঁকে গ্রেফতার করে দু’বছর জেলে রাখা হয়। পরে ন্যাপের প্রধান প্রফেসর মোজাফফর আহমদ এর মাধ্যমে হাইকোর্টে রিট করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছিল তাঁর বিশাল অবদান।১৯৮০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সরকারের আমন্ত্রণে তিনি দেড়মাসের জন্য লিডারস টোর প্রোগ্রামে রাশিয়া সফর করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদে জনগণ কর্তৃক বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও জননেতা। ১৯৬২ সাল থেকে তিনি ৪০ বছরেরও অধিক সময় তিনি দৈনিক সংবাদ সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। ১৯৫২ সাল থেকে এ যাবত তিনি প্রায় ৬৮ বছর ধরে রাজনীতিতে জড়িত আছেন। জীবনে রাজনৈতিক কারণে জেল খেটেছেন তিনবার। তাকে এতদ্বাঞ্চলের সৎ, ত্যাগী ও আর্দশিক রাজনীতি ও সাংবাদিকতার প্রতীক বলা হয়ে থাকে।