২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইপিএল কেন্দ্র করে লালাবাজারে চলছে জোয়া

এমরান ফয়সল:: সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলছে ক্রিকেট বিশ্বের বড় আসর ‘ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ’ (আইপিএল)। কিন্তু ঝমকালো এ আসরটি ভারতের হলেও একে কেন্দ্র করে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায় প্রতিদিনই বসছে জমজমাট ক্যারম র্বোড ও মোবাল শিলং তীর খেলার জুয়াআসর। বাজির নামে এমন জুয়াতে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকেই। যাদের বেশিরভাগই তরুণ। ‘এই ওভারে ছক্কা হবে। কারা পক্ষে এবং কারা বিপক্ষে বাজি ধরবেন?’ এমন করেই হাঁক ছাড়ছেন একজন, আর উপস্থিত দর্শকরা পক্ষে-বিপক্ষে একটা নির্দিষ্ট অংকের বাজি (জুয়া) ধরছেন। আইপিএল ঘিরে এমন করেই চলছে রমরমা বাজি বাণিজ্য। দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায় বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বস্তি, পাড়ার মোড়ের দোকানে প্রতিদিন আইপিএল’র খেলার সময় চলে এমন জমজমাট বাজি ধরার খেলা। এসব স্থানে দর্শক যতোটা না খেলা দেখার টানে উপস্থিত হন, তারচেয়ে বেশি থাকে জুয়ার টান। আইপিএল-কে ঘিরে এই বাজিতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য হচ্ছে লালাবাজারে এদিকে, আইপিএল’র গত আসরগুলোতে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখলেও এবারে সেদিকে পুলিশের খেয়াল নেই বলে মন্তব্য সচেতন মহলের। এই সুযোগে আইপিএল-কে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে বাজিকররা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার এলাকার চায়ের দোকান এবং চায়ের হোটেলে আইপিএলকে ঘিরে বাজি ধরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। জানা গেছে, আইপিএলকে ঘিরে যে জুয়ার খেলা চলছে। তার মধ্যে ক্রিকেটপ্রেমী নিম্নবিত্ত ও তরুণ শ্রেণির মানুষই বেশি। বাজিতে অর্থ লাভের আশায় তারা সারাদিনের পারিশ্রমিক নিয়ে বাজি খেলায় বসেন। খেলা শেষে কারো মুখে দেখা যায় খুশির ঝিলিক, আর কেউ বাসায় ফিরেন মলিন মুখে। এই শ্রেণির বাইরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশও আইপিএল-বাজির খেলায় মেতেছে। খেলায় বাজি ধরার পদ্ধতিটাও বেশ চমকপ্রদ। ম্যাচ শুরুর আগেই পক্ষে-বিপক্ষে বাজি ধরা হয়- এই ম্যাচে কোন দল জিতবে এ নিয়ে। তাছাড়া প্রতি ওভারে কিংবা প্রতি বলেও বাজি ধরা হয়। ‘এই ওভারে কয়টা ছক্কা হবে’ কিংবা ‘এই ওভারে উইকেট পড়বে কি না?’ এসবের পক্ষে-বিপক্ষেও চলে বাজি বাণিজ্য। এছাড়াও অমুক দল মোট কতো রান করবে, অমুক বোলার কতো উইকেট নেবে কিংবা অমুক ব্যাটসম্যান ফিফটি বা সেঞ্চুরি করতে পারবে কি না, এমন বাজিও ধরা হয়। এসব জুয়ায় সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০-৫০ হাজার টাকাও বাজি ধরা হয়।