ডায়ালসিলেট::
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে জাকারিয়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় আশিক, সাহাবুদ্দিনের পর হুমায়ুন নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর রোববার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হুমায়ুন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ গ্রামের ইয়াকুব আলীর পুত্র। এর আগে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার হওয়া একই গ্রামের কালা মিয়ার পুত্র আশিক ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে হত্যাকান্ডের ঘটনায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলো পুলিশ।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল জাকারিয়া হত্যাকান্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খুনের ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
জানা যায়, গত সোমবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি জাকারিয়া থানাবাজার থেকে টুকেরবাজার যাওয়ার পথে ইসলামপুর কবরস্থান সংলগ্ন স্থানে পৌঁছালে আশিক ও তার সহযোগি দু’জন মোটর সাইকেলে করে এসে পেছন দিক থেকে জাকারিয়ার পাজরের বাঁ পাশে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। তারা জাকারিয়ার সাথে থাকা ২০ হাজার টাকা এবং একটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরদিন মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধিন অবস্থান মারা যান তিনি। নিহত জাকারিয়া নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মধ্যনগর গ্রামের শাহানুর আলমের পুত্র এবং সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তৈমুরনগর গ্রামের অস্থায়ী বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহতের মামা হাফিজ ছগির আহমদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রথমে ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা খুনের ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে আবেদন করেন।
এ ঘটনায় সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম হত্যাকান্ডে জড়িতদের ধরতে থানা পুলিশসহ ডিবিকে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে সহকারি পুলিশ সুপার (গোয়াইনঘাট সার্কেল) নজরুল ইসলাম পিপিএম এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম নজরুলের নেতৃত্বে থানা পুলিশ এবং ডিবির একাধিক টিম আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়।
এ/