সোহেল আহমদ :: শুক্রবারে (১০ মার্চ) অনুষ্ঠিত সিলেটে বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের ভোট গণনা শেষে মহানগর বিএনপি সভাপতি পদে নাসিম হোসাইন ১০৬৬ ভোট, সাধারণ সম্পাদক পদে এমদাদ হোসেন চৌধুরী ১০৫৮ ভোট এবং সাংগঠনিক পদে সৈয়দ সাফেক মাহবুব ৬৫৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে সভাপতি পদে আরেক প্রার্থী মিফতাহ সিদ্দিকী পেয়েছেন ৭৬৮ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে সিটি কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম পেয়েছেন ৭৭২ ভোট এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে বিজয়ী প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রেজাউল করিম নাচন পেয়েছেন ৬২৩ ভোট।
শুক্রবার সিলেটের রেজিষ্ট্রারী মাঠে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এতে
সিলেট মহানগর বিএনপি সভাপতি পদে আবারো নির্বাচিত হয়েছেন নাসিম হোসোইন এতে বাদ পড়লেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ত্যাগী নেতা মিফতাহ্ সিদ্দিকী।
তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন। এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপির ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারিতে সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ।
বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে অনেক নেতাকর্মীরা মহানগর বিএনপি‘র গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে (সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক) পরিচালনা করলেও তারা সিলেটের রাজপথে দলকে তেমন চাঙ্গা রাখতে পারেননি। সে সময়ে সভাপতি পদে নাসিম হোসাইন দ্বায়িত্বে থাকলেও দলকে তেমন চাঙ্গা করতে পারেননি।সে সে সময়ে মিছিল মিটিংয়েও তখন নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল ৩০-৪০ জন।
তবে সিলেটে মহানগর বিএনপি‘র আহ্বায়ক কমিটি আসার পর থেকে দল আবারো চাঙ্গা হয়ে উঠে। এসময় বিএনপি‘র আহবায়ক হিসেবে আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী ও সদস্য সচিব মিফতাহ্ সিদ্দিকী দলের দ্বায়িত্ববার নেন। তখন সিলেটের রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে দেখার মতো। হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে দলের মধ্যে বিএনপির প্রাণ ফিরে আসে। এর মধ্যে বিশেষ করে মিফতাহ্ সিদ্দিকীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। সেদিন মিফতাহ্ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে সিলেটের রাজপথে বিএনপির এটিই ছিল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শোডাউন। তখন রাস্তায় পুলিশের অবস্থান থাকলেও হাজার হাজার নেতাকর্মী দেখে অনেকটাই নীরব অবস্থানে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যেত।
তবে আন্দোলন সংগ্রামে মিফতাহ্ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে মিছিল সহকারে শোডাউন সিলেটের মাটিতে কখনও উপলব্ধি করা যায়নি।
এদিকে সম্মেলন আসলেই সভাপতি- সম্পাদক পদে খেলতে মরিয়া হয়ে যান। নতুন নেতৃত্ব আসলে দল সংগঠিত হয়। কিন্তু অনেকেই সভপতি পদ ছাড়তে নারাজ কিন্তু দ্বায়িত্ব নেয়ার পর তার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেন না। দলের দূর্দিনে যারা আন্দোলনের বদলে নীরবতা পালনে বেশী লক্ষ্য করা যায়।
বিগতদিনে দলের অনেক নেতাকর্মীরা পদের সঠিক প্রয়োগ না করায় অনেকটাই পেছনে চলে গিয়েছিল। কিন্তু আহ্বায়ক কমিটি আসার পর দলটি আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বর্তমান নির্বাচিত কমিটি দ্বায়িত্ব নেয়া সভাপতি-সম্পাদক-সাংগঠনিক দলকে কতটুকু এগিয়ে নিয়ে যাবেন তা সময়ের ব্যাপার।
পংকী ও মিফতাহ্র হাত ধরেই সিলেটের আহবায়ক কমিটি হওয়ার পর নেতাকর্মীদের নিয়ে দলকে যেভাবে সুসংগঠিত করেছেন তা সিলেট মহানগর বিএনপি‘র একটি শক্তিশালী অবস্থান করে রেখেছেন। তারা দলের প্রয়োজনে কাজ করেছেন বলে অনেক নেতাকর্মীরা মনে করছেন।
দলের জন্য মিফতাহ সিদ্দিকী নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ করা আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে অবস্থানে থেকে দলের গুরুত্বপূর্ণস্থানে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে দলের প্রয়োজনে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। দলের প্রয়োজনে বর্তমানে সিলেটের রাজপথে সঠিক নেতৃত্বে মিফতাহ সিদ্দিকীর মতো ত্যাগী নেতার প্রয়োজন ছিল।
তবে বর্তমান কমিটি দলকে কতটুকু এগিয়ে নিয়ে যাবেন বা দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথ কতটুকু শক্তিশালী করতে পারবেন আগামীদিনে আওয়ামী সরকার পতনের আন্দোলন সংগ্রামে তার প্রমান মিলবে।