ডায়াল সিলেট ডেস্ক: মৌলভীবাজারে কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ে এক প্রবাসীর ৫০ শতক টিলাভূমি কিনে আস্তানা গড়েছিল ‘জঙ্গিরা’।
টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) দুর্গম পাহাড়ে গত সাত দিনের নজরদারির মাধ্যমে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব টাট্টিউলির জুগিটিলা গ্রামে এই জঙ্গি সদস্যদের আস্তানার সন্ধান পায়।
এরপর শুক্রবার (১১ আগস্ট) রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ওই এলাকার একটি টিলায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ও সোয়াট এবং পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটটির প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নতুন ‘জঙ্গি’ সংগঠন ‘ইমাম মাহমুদের কাফেলার’ সদস্যদের অস্তিত্বের কথা।
তিনি বলেন, তারা জিহাদের নামে বেশ কিছু লোককে সংঘবদ্ধ করে দীক্ষা দিয়ে কুলাউড়ার এই গহিন পাহাড় এলাকায় আস্তানা গড়ে তুলেছিল। বাড়িটি থেকে মোট ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও ছয়জন নারী। এছাড়া ৩ শিশুও ছিল। আটক ব্যক্তিরা টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।
আসাদুজ্জামান বলেন, এই সংগঠনের প্রধান যে ব্যক্তি, তার নাম-পরিচয় পেয়েছি। এই মুহূর্তে তার নাম পরিচয় বলতে পারব না। তাকে গ্রেফতারে আমাদের বাহিনী কাজ করছে। এরা নতুনভাবে জঙ্গি সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ করেছে। তাদের কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারে, সে জন্য এ রকম নির্জন গহিন পাহাড়ি এলাকায় আস্তানা গড়ে। তারা যে জমি কিনেছে, সেটি ৫০ শতক। তাদের কাছ থেকে দলিলটি উদ্ধার করেছি। তবে জমির দাম যেটি দলিলে লেখা, সেটি সঠিক কি না এবং কী পরিমাণ অর্থ এখানে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত করে জানতে পারব। এখানে কারা আসা-যাওয়া করত, তাদের নাম-পরিচয় পেয়েছি। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় ও অভিযানে থাকা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে জানা যায়, কয়েক মাস আগে কুলাউড়ার কর্মধার পূর্ব টাট্টিউলী গ্রামের বাসিন্দা ও কাতারপ্রবাসী রাশিদ মিয়ার মালিকানাধীন ৫০ শতকের টিলাভূমি কিনে নেয় জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা। এটি কিনতে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদের সহযোগিতা করেন। ওই টিলায় চারটি টিনের ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করে শিশু-নারীসহ ১৫-১৬ জন সদস্যের পরিবার। প্রয়োজন ছাড়া ওই টিলা থেকে নামত না তারা। তাদের চলাফেরা নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে নদীগর্ভে নিজেদের বাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখানে এসে জমি কিনেছে এবং তারা সেখানে সবজি চাষ ও সামাজিক বনায়ন করবে বলে জানায়।
এদিকে সপ্তাহখানেক আগে সংগঠনের এক সদস্য তার পরিবারকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ঢাকায় গেলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করে সিটিটিসির সদস্যরা।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে কুলাউড়ার জুগিটিলায় তাদের নতুন আস্তানার কথা স্বীকার করে। সেই সূত্র ধরে সিটিটিসির সদস্যরা ওই এলাকায় প্রায় সাত দিন সেখানে অবস্থানরত সংগঠনের সদস্যদের নজরদারিতে রাখেন। নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ও সোয়াট এবং পুলিশ ওই টিলা ঘিরে রাখে।
প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী অভিযানের সময় বিনা বলপ্রয়োগে তাদের আটক করা হয়। হেফাজতে নেওয়ার পরে আস্তানাটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩ কেজি বিস্ফোরক ও ৫০টির মতো ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। যেগুলো দিয়ে গ্রেনেডসহ হাই এক্সপ্লোসিভ তৈরি করা হয়। এছাড়া ৩ লাখ ৬১ হাজার টাকা, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, কমব্যাট বুট, বক্সিন ব্যাগ এবং কয়েক বস্তা জিহাদি বই জব্দ করা হয়।
পরে পার্শ্ববর্তী আছকরাবাদ খেলার মাঠে উদ্ধার করে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিটিটিসির জয়েন্ট কমিশনার কামরুজ্জামান, সোয়াট কমান্ডার এডিসি জাহিদ, মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপার মনজুর রহমান, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুছ ছালেক।