জগন্নাথপুরে সংঘর্ষে ব্যবহৃত বন্দুক উদ্ধার

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০১৯

ডায়ালসিলেট ডেস্ক:সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষে ব্যবহৃত বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। এই সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সাব্বির মিয়া নামে এক শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

ঘটনার ১৯দিন পর জগন্নাথপুর থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে রানীগঞ্জ ইউনিয়নের রৌয়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের নিকটবর্তী একটি পরিত্যক্ত টং দোকানের নিচ থেকে বন্দুকটি উদ্ধার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার এসআই লুৎফুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় সংঘর্ষে ব্যবহৃত বন্দুকটি উদ্ধার করেছি। এই বন্দুকটি আবু তাহের মজনু মিয়ার নামে লাইসেন্স রয়েছে। সংঘর্ষে নিহত শিশুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ, ও এলাকাবাসী জানান, জগন্নাথপুরের আলমপুর গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা মজনু মিয়া (আবু তাহের) ও তার ভাই খালেদ মিয়ার মধ্যে স্থানীয় কুশিয়ারা নদীর দক্ষিণপাড় এলাকায় বাসষ্ট্যান্ডের মালিকানার জায়গা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধপূর্ণ বাসস্ট্যান্ডের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন মজনু মিয়ার ছেলে নোমান আহমদ। এই বিরোধের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বাসস্ট্যান্ডে বৈঠক বসে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যানেজারের পদ থেকে নোমান আহমদকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানাতে স্ট্যান্ডের শ্রমিক নেতা ইজাজুল ইসলাম, মমরাজ মিয়া গংরা মজনু মিয়ার বাড়িতে যান। এসময় মজনু মিয়ার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষ চলাকালে হট্টগোল শুনে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে আসা শিশু সাব্বির মিয়া (১০) মজনু মিয়ার পক্ষের লোকজনের বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারায়। নিহত শিশু নবীগঞ্জের কামারগাও নগরকান্দি গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। সে আলমপুরের নোয়াগাঁও ফুরক্বানিয়া হাফিজিয়ার মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণীর ছাত্র। শিশু সাব্বির তার মামা ইজাজুল ইসলামের বাড়িতে থাকে পড়াশুনা করত। সংঘর্ষে আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার ৪ দিন পর (২১ অক্টোবর) নিহত শিশুর মা ছুফিয়া আক্তার বাদী হয়ে আওয়ামীলীগ নেতা মজনু মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন কাউকে আটক করা হয় নাই।

0Shares