সিলেটে পাড়া-মহল্লায় ”কিশোরদের সঙ্গবদ্ধ আড্ডা”

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ২:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯

ডায়ালসিলেট ডেস্ক:: সিলেটের শান্ত পরিবেশ। পাড়া-মহল্লার অলিগলি, মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেওয়া উঠতি বয়সি কিশোরদের সঙ্গবদ্ধ আড্ডা বড্ড বেপরোয়া। তাই তাদের  চালচলন-পোশাক  পরিদান, হেয়ার স্টাইল আর কথাবার্তায় সবই বখাটে ছেলেদের মতন। ছোট-বড় ধার ধারে না এরা। আর এই  আতঙ্কের অপর নাম কিশোর গ্যাং।
সিলেটে দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠছে কিশোরদের,কিশোর গ্যাং। বর্তমান স্কুল-কলেজের পড়ুয়া কিশোররা পড়া-লেখার বদলে সঙ্গ দোষে জোয়া,মাদকসহ নানান  অপকর্ম  করে অন্ধকারের দিকে পা বাড়াচ্ছে  যা  অনেক অভিবাবকদের কাছে অজানা।

বর্তমানে কিশোররা তাদের বন্ধুদের একে অন্যের সাথে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়  ১৫-২০জন কিশোরদের নিয়ে অপরপক্ষকে আক্রমন করলে দাড়ালো দেশীয় অস্ত্রদিয়ে  দিয়ে আঘাত করে যা সিলেটে এ ঘটনা ঘটেছে অনেকবার। অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। আর এসব নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন বিভিন্ন মহলের রাজনৈতিক নেতারা। সন্ধ্যা হলেই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় দেখা যায় কিশোরদের আড্ডা।  ওসমানি মেডিকেল, লালাদিঘীরপাড়, বাগবাড়ি, মিরের ময়দান, দর্শন দেউড়ি, সুবিদবাজার, মদিনা মার্কেট, মির্জাজাঙ্গালসহ বিভিন্ন এলাকায় সঙ্গবদ্ধভাবে এসব এলাকায় কিশোরদের দেখা যায়।

মূলত কিছু রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় সংগঠিত হচ্ছে কিশোরদের সঙ্গবদ্ধ দল। যা কিশোররা জানে না তার ভবিষ্যৎকে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের দিকে।

কিশোর গ্যাং শুরুতে বিভিন্ন ধরনের পার্টি করা, হর্ন বাজিয়ে প্রচণ্ড গতিতে মোটরসাইকেল চালানো ও রাস্তায় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার কাজে সব সময় এমন বাজে ধরনের কাজে লিপ্ত থাকে। এরপর থেকে গ্রুপের ব্যাপক ভাবে চাহিদা বেড়ে যায় ফলে বকোর গ্রস্ত ছেলেরা ও পরিবারের অজান্তে এসব কাজে জড়িযে পড়ে বেড়েছে যায় অপরাধ। বিভিন্ন্ অনুসন্ধানে কিমোর গ্যাং তাদের প্রতিটি গ্রুপে ১৫ থেকে ২০ জন করে কাজ করে থাকে।

প্রায় এক বছরে সিলেট, দক্ষিণ সুরমা লালাবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ নানা ধরনের অপ্রিতীকর ঘটনা গটিয়ে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং। চলতি এ বছর বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর আলোচনায় উঠে আসে বন্ড-০০৭ নামের একটি গ্যাং। সম্প্রতি

সম্প্রতি কিশোর গ্যাং মারাত্মকভাবে তাদের অপরাধের মাত্রা বেড়ে তুলেছে।দিন দিন তাদের ছিন্তাই ও লুটপাটের মত অপরাধ ভয়ংকর ভাবে বেড়ে গেছে।

বিভিন্ন সময়ে দেখা য্য়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দিনভর বখাটেরা আড্ডায় মেতে ওঠে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও ইদানীং বিভিন্ন সড়কের অলিগলিতে বখাটে ও কিশোর গ্যাংদের উপদ্রব বেড়েছে। এ কারণে প্রতিনিয়ত ছিন্তাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও যৌন হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন ছাত্রীরা।

যৌন হয়রানির মুখে অনেক ছাত্রী পড়াশোনা ছাড়তেও বাধ্য হচ্ছেন। শুধু যৌন হয়রানি নয়, কিশোর গ্যাং অপরাধ কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে উঠায় অনিরাপদ হয়ে উঠেছে গ্রাম শহরের জনজীবন।

সম্প্রতি বেশকিছু হত্যাকাণ্ড গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসার পর কিশোর গ্যাং নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এমন কি শহরের অলিগলিতে চায়ের দোকানে ও অবস্থান নেয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তাদের দ্বারা প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে বড় ধরনের নানা অপরাধ। বিশেষ করে তারা প্রতিনিয়ত এসব অপরাধমুলক কাজে লিপ্ত থাকে মোটরসাইকেল চুরি, ইয়াবা সেবন, ছিনতাই, মদ বিক্রি ও সেবন, মানুষকে জিম্মি রেখে মুক্তিপণ আদায়সহ ভয়ংকর সব অপরাধ করে বেড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং। এমন অবস্থায় শহরের পর গ্রাম পাড়া এলাকা গুলোতে তাদের প্রভাব বিস্তার গড়ে তুলেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধের পাশাপাশি কিশোরদের নিয়ন্ত্রণ বা সংশোধনের জন্য পরিবারের অভিভাবকদের সচেতন ও সক্রিয় হওয়া জরুরি বলে মনে করেন ।ফলে দিন দিন তাদের ভবিষৎ আলোর পথে না গিয়ে অন্ধাকারের ডুবে যাচ্ছে।অবশেষে তাদের ভবিষৎ অনিশ্চিত হযে পড়েছে।

0Shares