শহিদমিনারের পাশে মার্কেট নির্মাণ, বিক্ষুব্ধ সুনামগঞ্জ

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৮, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্ক:সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদমিনার এলাকায় বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ, শহিদমিনার নিয়ে কটূক্তি ও অবজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, কালো কাপড়ে শহিদমিনার ঢেকে প্রতিবাদসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা।

রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১১টার বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল দিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় প্রবেশ করে শহিদমিনার এলাকায় অবৈধ বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন।

অবিলম্বে শহিদমিনার এলাকা থেকে বাণিজ্যিক মার্কেট অপসারণ ও শহিদমিনারের অস্তিত্ব অস্বীকার করে জেলা জজের নাজির কর্তৃক দায়েরকৃত মামলা বাতিলের দাবিতে সুনামগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধারা এই বিক্ষোভে অংশ নেন।

এই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রী ও সচিব বরাবরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে শহর প্রদক্ষিণ করে তারা সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদমিনারে এসে শহিদ মিনার কালো কাপড়ে ঢেকে দিয়ে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। মুক্তিযোদ্ধারা জেলা জজের বদলি ও শহিদমিনার অবমাননায় তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

সকাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে জড়ো হোন প্রায় তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা। তারা হাতে লাঠি ও জাতীয় পতাকা নিয়ে শহিদমিনার এলাকায় সম্প্রতি গড়ে তোলা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপসারণের মিছিল দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তখন জেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভা চলছিল। বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা ‘শহিদমিনার দখল করে যারা/পাকিস্তানের প্রেতাত্মা তারা’ স্লোগান দিয়ে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় ঢুকে পড়ে জেলা জজের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে তারা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে হেঁটে হেঁটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে জেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভা চলাকালে সম্মেলন কক্ষে ঢুকে পড়েন বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা। তারা শহিদমিনার এলাকায় জেলা জজ কর্তৃক সম্প্রতি নির্মিত বাণিজ্যিক মার্কেট অপসারণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

স্মারকলিপিতে মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সনের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ শহর শত্রুমুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের ডিএস রোডের উঁচু ভূমিতে (গণপূর্ত বিভাগের মালিকানাধীন) শহিদদের স্মরণে নিজেরাই শহিদমিনার নির্মাণ করে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই ১৯৭১ সনের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপন করেন। এরপর থেকেই প্রতিটি জাতীয় দিবসে শহিদদের শ্রদ্ধাঞ্জলিসহ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। গত জানুয়ারি মাসে শহিদমিনারের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শে সুনামগঞ্জ জেলা জজ রাতের আঁধারে দুটি বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করেন। এর প্রতিবাদ করে মুক্তিযোদ্ধারা ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহিদদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ বর্জনের হুমকি দিলে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের নেতৃত্বে পূর্বদিকের মার্কেটটি অপসারণ করা হয়। কিন্তু পশ্চিম দিকের মার্কেটটি বিপুল অংকের টাকা দিয়ে ভাড়া দেওয়া হয়।

এদিকে ২১ ফেব্রুয়ারি চলে যাওয়ার কয়েকদিন পরই আবার রাতের আঁধারে পূর্বপাশের বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণস্থলে কাঁটাতার দিয়ে বেড়া দিয়ে কলাগাছ রোপণ করে শহিদমিনারের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়। এ ঘটনায় আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধারা। তারা গত ১ মার্চ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবস প্রস্তুতি অনুষ্ঠানে আগামী ২৬ মার্চ শহিদমিনার দখলের প্রতিবাদে কর্মসূচি বর্জনের হুমকি দেন।

এর প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধারা শহিদমিনার রক্ষার দাবি জানান। তাছাড়া একই শহরের পুরাতন কোর্ট এলাকায় জেলা জজের কর্মচারীরা গরুর খামার, রিক্সার গ্যারেজ, রেস্টুরেন্ট, মোদী দোকানসহ মার্কেট করে ভাড়া দিয়ে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আড়ালের নিন্দাও জানান স্মারকলিপিতে। পাশাপাশি গত দুই বছর ধরে সুনামগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বঞ্চিত করে আদালতে বাইরের কর্মচারী নিয়োগ দেয়ায় সেটা বাতিলের দাবিও জানান তারা।

এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রতিবাদী কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নূরুল মোমেন, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবু সুফিয়ান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্য সচিব মালেক হুসেন পীর, সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার আব্দুল মজিদ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমান প্রমুখ। প্রতিবাদী এ কর্মসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের জনতাও সংহতি জানিয়ে অংশ নেন।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন,’আমাদের আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা চলাকালেই মুক্তিযোদ্ধারা সভায় ঢুকে শহিদমিনার এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ ও শহিদমিনারের অস্তিত্ব অস্বীকার করে মামলা করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা আমাদেরকে তাদের দাবির স্মারকলিপি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেরণের জন্য দিয়েছেন। আমরা সেটা পাঠিয়ে দেব।’

0Shares