সেনা ও পুলিশ প্রধানের যৌথ বৈঠকে : কমিটি যে সুপারিশ দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২০

পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের নিহত হওয়ার ঘটনায় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্টিত হয়েছে।

আজ বুধবার কক্সবাজারে সেনাবাহিনীর বাংলো জলতরঙ্গে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হয়। সেখানে তাঁরা পুলিশের গুলিতে মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের নিহত হওয়ার ঘটনাকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, এতে দুই বাহিনীর সম্পর্কে চিড় ধরবে না। সেনাবাহিনী ও পুলিশ একে অন্যের কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছে। যে ঘটনা ঘটেছে, অবশ্যই সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী মর্মাহত। আমরা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে চাই। সিনহা নিহতের ঘটনায় দায় ব্যক্তির, কোনো বাহিনী/প্রতিষ্টানের নয়।

সেনাপ্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি ‘জয়েন্ট ইনকোয়ারি টিম’ (যৌথ তদন্ত দল) গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের মাকে ফোন করে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথার ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর আস্থা আছে। যে যৌথ তদন্ত দল গঠিত রয়েছে, তার ওপরও দুটি বাহিনীই আস্থাশীল।

‘আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, দুই বাহিনীর সম্পর্কে চিড় ধরে এমন কিছু হবে না।’ এ ঘটনা নিয়ে যেন সেনাবাহিনী ও পুলিশের ভেতর অনাকাঙ্ক্ষিত চিড় ধরানোর মতো ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকারও অনুরোধ করেন তিনি।

এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশ। এখানে আইনের শাসন আছে। সংবাদমাধ্যম সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। বিচার বিভাগ মুক্ত। এ ঘটনা নিয়ে অনেকেই উসকানিমূলক কথা বলার চেষ্টা করছেন। যারা উসকানি দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে, তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে না। মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যুতে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাবমুক্ত হবে না।

সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও আস্থার সম্পর্ক। কমিটি প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তদন্ত করবে। কমিটি যে সুপারিশ দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ৩১শে জুলাই সন্ধ্যার পর নিজের প্রাইভেটকারে করে তথ্যচিত্রের কাজ শেষে টেকনাফ থেকে কক্সবাজার ফেরার সময় শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান। তিনি ২০১৮ সালে সৈয়দপুর সেনানিবাস থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন।

0Shares