‘মহামারিতে রোহিঙ্গারা উধাও হয়ে যাবে না,

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২০

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সম্ভাব্য গণহত্যা থেকে বাঁচতে তিন বছর আগে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার সরকার। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংগঠনটি আরো জানায়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে তথ্য, চলাফেরা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৫শে আগস্ট রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্মম জাতি নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। গণহারে হত্যা, ধর্ষণ করা হয় অসংখ্য রোহিঙ্গাকে। পুড়িয়ে দেয়া হয় অগণিত গ্রাম। নির্যাতন থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৭ লাখ ৪০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা। দেশটিতে আগ থেকেই বাস করছিল নব্বইয়ের দশকে পালিয়ে আসা আরো আনুমানিক ৫ লাখ রোহিঙ্গা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
গত নভেম্বরে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের জোর করে অন্যত্র পাঠানো ও মানবতাবিরোধী অপরাধ বিষয়ে একটু তদন্ত চালু করেছিল আইসিজে। এখন অবধি আইসিজে’র নির্দেশ বাস্তবায়ন করেনি মিয়ানমার। দেশটিতে রোহিঙ্গাদের ওপর হওয়া নির্যাতনের তদন্ত করতে জাতিসংঘকে প্রবেশাধিকার দেয়নি সরকার।
এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড এডামস বলেন, মিয়ানমার সরকারের উচিৎ রোহিঙ্গাদের ওপর হওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের দায় স্বীকার করে নেওয়া। বৈশ্বিক মহামারি সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা উধাও হয়ে যাবে না। মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছাকৃত প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সমাধান মেনে নেওয়া উচিৎ।
রাখাইনে অবস্থানরত ৬ লাখ রোহিঙ্গাও গুরুতর নির্যাতন ও সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছে। কেউ কেউ মরিয়া হয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যান্য দেশে আশ্রয় খুঁজছেন। চলতি বছর মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড এমন রোহিঙ্গাভর্তি নৌকা ফিরিয়ে দিয়েছে। মালয়েশিয়ায় কিছু রোহিঙ্গাকে আটকও করা হয়েছে। এদিকে, প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা ৩০০’র বেশি রোহিঙ্গার সঙ্গে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের দেখা করতে দেয়নি। তাদের বিচ্ছিন্ন ভাসান চরে আটক করে রাখা হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা নির্যাতনের মূল কারণগুলো নিয়ে এখনো কাজ করেনি মিয়ানমার। বাংলাদেশ থেকে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাসম্পন্ন প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এইচআরডব্লিউ আরো জানায়, বাংলাদেশের শিবিরগুলোয় বাসরত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে আকুল হয়ে রয়েছে রোহিঙ্গারা। তবে সেজন্য তারা নিশ্চিত হতে চায় যে, তাদের জন্য মিয়ানমার নিরাপদ। তারা নাগরিকত্ব ও চলাফেরার স্বাধীনতা চায়। এছাড়া, তাদের ওপর হওয়া নির্যাতনের যথোপযুক্ত বিচার চায়। এদিকে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারে জাতিসংঘ সমর্থিত আন্তর্জাতিক স্বাধীন তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন জানিয়েছে, সেখানে বাসরত ৬ লাখ রোহিঙ্গা গণহত্যার শিকার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

এ/১৩

0Shares