ফ্রান্সের মন্ত্রীসভায় নতুন আইনের বিল অনুমোদন ইসলামে উগ্রবাদের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ১২:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃঃ ইসলামপন্থি উগ্রবাদ প্রতিরোধ করতে ফ্রান্সের মন্ত্রীসভায় একটি আইনের বিল উত্থাপন করা হয়েছে। মন্ত্রীপরিষদ ওই বিলটিকে অনুমোদন দিয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার ফলে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

মূলত ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে বজায় রাখার জন্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘হোম-স্কুলিং’ এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রদান সম্পর্কে নিয়ম নীতিকে আরো কঠোর করার কথা বলেছেন। তবে দেশটির অভ্যন্তরীন এবং বিদেশী সমালোচকরা এ আইনকে ম্যাক্রন সরকারের বিরুদ্ধে ধর্মকে লক্ষ্য করে ব্যবহারের অভিযোগ করছেন। কিন্তু ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জ্যাঁ ক্যাসটেক্স একে ‘সুরক্ষা আইন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মুসলিমদের উগ্রপন্থিদের হাত থেকে নিরাপদ রাখবে। তিনি দাবি করেছেন, এ আইন কোন ধর্মের বিরুদ্ধে না।

বিশেষ করে মুসলিম ধর্মের বিরুদ্ধে কখনও নয় বলেও জোর দিয়ে বলেন তিনি।
আইনটি মূলত রিপাবলিকান নীতিকে সমর্থন করছে। যেখানে অনলাইনে যেকোন বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের উপর নিষেধাজ্ঞাগুলো আরো কঠোর করা হবে এবং কোন ব্যক্তিগত তথ্য বিকৃতভাবে প্রকাশ করতে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হবে।

এই তথ্য বিকৃতির কারণেই এ বছরের অক্টোবরে শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিকে শিরচ্ছেদ করে হত্যা করে এক চেচেন যুবক। প্যাটি শ্রেণীকক্ষে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন। এ জন্য চেচেন ওই যুবক তাকে হত্যা করে। এ ঘটনা তদন্তে দেখা যায়, ওই শিকক্ষের বিরুদ্ধে একটি অনলাইন প্রচারণা চালানো হয়েছিল। এর ফলে তাকে হত্যা করা হয় বলেও ধরণা করছেন তদন্তকারীরা।

প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গোপনে ইসলামীপন্থি মতাদর্শ প্রচার এবং হোম-স্কুলিংয়ের বিধিনিষেধ আরো কঠোর করা হয়েছে। তাছাড়া এ আইনে বহুগামিতাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা বহুগামী তাদের বসবাসের আবেদন বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। নারীদের কুমারিত্ব পরীক্ষা করা হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জরিমানাসহ নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলেও আইনে নীতিমালা করা হবে। এ আইনের মধ্যে আরো রয়েছে মুসলিম সংগঠনগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার নতুন নিয়ম। এছাড়া বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কর্তব্যরত কর্মকর্তা এবং শ্রমিকদের কর্মস্থলে ধর্মীয় পোশাক পরিধানের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরো বাড়ানো হতে পারে বলে এ আইনের জানানো হয়।

এ আইনের খসড়াটি কিছুদিন ধরে বিবেচনাধীন ছিল। তবে ফ্রান্সে সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামপন্থিদের হামলার ঘটনায় এই আইনটিকে সামনে এগিয়ে দিয়েছে। ফলশ্রুতিতে মন্ত্রীসভা এই আইনের বিল পাস করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বাস। বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ মুসলমান বসবাস করছে দেশটিতে।

0Shares