‘জরুরি অবস্থা জারির উদ্দেশ্য আজ ব্যর্থ হতে চলেছে’

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ৫, ২০২১

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::

মঙ্গলবার ১৫ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৬৯
এটা এখন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, সরকার তার নিজস্ব অদক্ষতার ফলে কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা দলের বা নেতৃত্বের উন্মেষ ঘটাতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত যে কোনো রাজনৈতিক সমাধানের জন্য প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল এবং তার দুই নেত্রীর দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবে। তাই ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির গোটা উদ্দেশ্যই আজ ব্যর্থ হতে চলেছে। এ অভিযান শুরু করে জেনারেলরা কী ধরনের অপরিপক্কতা ও অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, এ থেকে তারও সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে। তবে ইতিমধ্যেই এর জন্য জাতিকে চরম খেসারত দিতে হয়েছে। সকল শ্রেণির জনগণের জন্য চরম দুর্গতি সৃষ্টি করে প্রতিটি খাতকে সরকার লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। এজন্য জাতির কোটি কোটি মানুষের ওপর নেমে এসেছে ভয়াবহতম দুর্যোগ, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপুষ্টি, মৃত্যু, কর্মসংস্থানহীনতা। এর ক্ষতিপূরণ দেবে কে? এখনো জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে সুষ্ঠু ও অবাধ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের জন্য সম্মানজনক প্রস্থান নিশ্চিত করার কিছুটা সময় ও সুযোগ রয়েছে।

বুধবার ১৬ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৭০
আমার সেলণ্ডকক্ষে বসে যখনই লোহার গরাদঘেরা দরজা পেরিয়ে আমার দৃষ্টি বাইরে চলে যায়, আমার চোখে পড়ে গোলাপী রঙের একগুচ্ছ জবাফুলের প্রচ্ছন্ন হাসি। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এ ফুল ব্যবহার করে তাদের পূজা উপাচারের সময়।

সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলগুলোকে আমার কাছে মনে হয় চিরসতেজ, মনোমুগ্ধকর। আমার নিজের কাছে কেন যেন সেগুলো সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে হয়। অন্য যে গাছটি আমার নজরে আসে তা হলো কাঁঠাল গাছের একটি ছোট চারা। মাঝে মাঝে সময় পেলেই আমি সেগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি নির্নিমেষ দৃষ্টিতে।
৪৩ বছর পর দুই দিকের যাত্রী নিয়ে ঢাকা ও কোলকাতার মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ আজ আবার শুরু হয়েছে। সরকারের সাথে সকল রাজনৈতিক দলের সংলাপ-পূর্ব আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৭ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৭১
আজ আমার অ্যালকোহল মামলায় শুধু আনুষ্ঠানিক হাজিরার জন্য গিয়েছিলাম নিম্ন আদালতে। জেলখানার বাইরে গিয়ে আইনজীবী ও অন্যান্য শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে দেখা করার এই সুযোগ নিতে আমি অনেক পছন্দ করি। একই সঙ্গে এতে করে সরকারের কী পরিমাণ অর্থের অপচয় হচ্ছে তা ভেবে আমি ব্যথিত হই। হাইকোর্ট ডিভিশন মামলা স্থগিত করে দেয়ার পর আদালতের আর কিছু করার নেই। অথচ মামলার বাদীপক্ষ আগ-পাছ কিছু না ভেবেই অনবরতভাবে লম্বা লম্বা সময়ের জন্য তারিখ নিয়ে মামলা প্রলম্বিত করে যাচ্ছে। সরকারের অহেতুক ব্যয় কমানোর জন্য আমাদের মতো একটি দেশের অবশ্যই আরো স্বচ্ছতা অবলম্বন করা উচিত।
আদালতে ব্যারিস্টার খোকন ছিল আমার সঙ্গে। কবিরহাট থেকে মঞ্জু কয়েকজন কর্মী এসেছিল তাদের প্রিয় নেতার কুশলাদি জানার জন্য।
এই অবৈধ সরকার দেশকে ক্রমশ নিয়ে যাচ্ছে রসাতলে।

শুক্রবার ১৮ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৭২
এর আগে আমি বহুবার উল্লেখ করেছি যে, এ সরকার হলো একটি দিকচিহ্নবিহীন সুচিন্তাবর্জিত, নেতৃত্বহীন সরকার। কেবলমাত্র ধ্বংসসাধনের জন্যই এর অভ্যুদয় ঘটেছে। মানসিক বিকৃতির পরিপূর্ণ লক্ষণ রয়েছে এর সকল কাজেকর্মে। এর জন এ সরকারের সকল কাজে দেখা যায় অসংলগ্নতা ও স্ববিরোধিতার ছাপ।
সংলাপ অনুষ্ঠান যদি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধান ও সমঝোতারই পদক্ষেপ হয়, তাহলে একইসঙ্গে রাজনীতিবিদদের ওপর এই নির্যাতনমূলক আচরণ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেন? এটা একটা সাধারণ জ্ঞানের বিষয় যে, নির্যাতন ও রাজনৈতিক সমঝোতার সংলাপ কখনো পাশাপাশি চলতে পারে না। সংলাপই হলো শান্তি প্রতিস্থাপনের সবচাইতে যৌক্তিক পন্থা। আজ সংবাদপত্রে বলা হয়েছে:  ‘সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনীত নাইকো মামলার সহ-অভিযুক্ত তৌফিককে হাইকোর্ট জামিন দেয়ার পর এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে তা অনুমোদিত হওয়ার পর জেলখানা থেকে মুক্তি দেয়ার অব্যবহিত পরে জেলখানার গেট থেকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা আবার তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তাহলে আর দেশে আইনের শাসন কোথায়? সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সচিব খোন্দকার শহীদুল ইসলামকেও আটক করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও খালেদ জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও নোয়াখালী জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. শাহজাহানের নামে। এভাবে বেসামরিক ফখরুদ্দীন সরকার যেখানে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে জেনারেল মঈনের বিভিন্ন বাহিনীও তাদের নির্যাতন ও নাজেহালকরণের প্রক্রিয়া অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার ১৯ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৭৩
জেলগেট থেকে তৌফিককে পুনঃগ্রেপ্তারের ঘটনা জেনারেল মইন ও তার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ড. তৌফিক একজন বিশিষ্ট ও সম্মানিত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী এবং রাজনীতিক নন। তার একমাত্র অপরাধ হলো তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনীত বার্জ মাউন্টেড পাওয়ার প্লান্ট’ ও ‘নাইকো’ দুর্নীতি মামলায় চাপের মুখেও সাক্ষী হতে রাজি হননি। নিজ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যদানে সরাসরি অস্বীকার করায় তাকে কারাবরণ করে নিতে হয়েছে- তিনি হয়েছেন অশেষ অপমান ও নির্যাতনের শিকার ও তার অসহায় দুই কন্যাসন্তান দুলি ও মৃদুলার দু’চোখে সৃষ্টি হয়েছে অবিরাম অসহায় অশ্রুপাত। আরো দুঃখজনক ব্যাপার হলো, ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্ররোচনায় সংবাদপত্রে এমন রিপোর্ট ছাপা হয়েছে যে, জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার অব্যবহিত পরে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রাজনৈতিক বিবৃতি দেওয়ার কারণে আবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ আদতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে ঠিক জেলখানার ফটকেই। এমনকি তার বন্ধু ফখরুদ্দীনও তাকে কোনো সাহায্য করতে পারেননি- কারণ, তিনি তো আর সরকার পরিচালনা করছেন না। এ ধরনের কর্মকা- শুধু একটি ফ্যাসিস্ট সরকারেরই সাজে।

রবিবার ২০ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৭৪
বাংলাদেশে এখন কাজ করছে দু’টি সরকার। একটি প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন আনুষ্ঠানিক সরকার এবং আরেকটি পর্দার পেছন থেকে নেতৃত্ব দানকারী সেনাপ্রধান জেনারেল মইনের সরকার। ফখরুদ্দীনের অধীনস্থ বেসামরিক সরকার আমলাতন্ত্রের সম্প্রসারিত একটি অংশ হিসেবে দৈনন্দিন বেসামরিক রুটিন কাজকর্ম চালাচ্ছে, অন্যদিকে মইন সকল মূলনীতি নির্ধারণী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাজনীতি, রাজনীতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানাদি ধ্বংসসহ সব ধরনের অত্যাচার, নির্যাতন, গ্রেফতার ও পুনঃগ্রেফতারের দায়িত্ব পালন করছে ছদ্মাবরণে সেনাপ্রধানের বাছাই করা কিছু অফিসার। নিজেদের যতই অদৃশ্য এবং লোকচক্ষুর আগোচরে বলে দাবি করুক না কেন, সকল কর্মকাণ্ডের সাফল্য ও ব্যর্থতার দায়ভার, জাতির সমূহ অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধনের সামগ্রিক দায়দায়িত্ব এবং অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ সকল অনাচার-অবিচারের সমস্ত অপরাধ প্রকৃতপক্ষে সেনাপ্রধানের অধীনস্থ সামরিক ইউনিটকেই বহন করতে হবে। এর সাথে পুরো সেনাবাহিনী মোটেও জড়িত নয়।

সোমবার ২১ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৭৫
অ্যালকোহল মামলায় আমি গিয়েছিলাম কোর্টে। হাজিরা দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা পূরণের জন্যই আমার এই আসা-যাওয়া। তবে এই সুযোগে আগের মতোই আমি আমার আইনজীবী ও অন্যদের সাথে দেখা করে পাণ্ডুলিপির হাতবদল করেছি। জনাকীর্ণ আদালতে গোয়েন্দা এজেন্টরা দূর থেকে আমি কী করছি বা বলছি তা অতটা বুঝতে পারে না।
আমার নির্বাচনী এলাকা থেকে একদল লোক আজ হাজির ছিল আদালতে। আমার সম্পর্কে লোকে কী বলাবলি করে এরা তাই জানিয়েছে আমাকে। পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে কুৎসামূলক যেসব বিবরণী প্রকাশ করা হচ্ছে তা কেউ বিশ্বাস করে না এবং আমি দুর্নীতি করেছি এটাও কারো কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়। ওদের কাছে আমি একজন আদর্শ মানুষ এবং আমার ওপর গ্রেফতার ও নির্যাতনের ফলে এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা বরং বেড়েছে।

মঙ্গলবার ২২ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৭৬
আমার দু’পা আবার ফুলে গেছে। আমাকে নেওয়া হয়েছিল হাসপাতালে, পরীক্ষার জন্য আরেক দফা রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের খবর হলো, হাসনা জানিয়েছে গত এক বছরে আমান প্রায় ১০ পাউন্ড ওজন হারিয়েছে। বোধহয় আমার কারাবন্দিত্বের কারণে মানসিকভাবে পর্যুদস্ত অবস্থায় তার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছে না বলে তার এই অবস্থা হয়েছে। সে এমনিতেই শীর্ণকায়। তার ওপর ১০ পাউন্ড ওজন হারালে তার শরীরে আর কী অবশিষ্ট থাকবে?
সন্তানদের কারণে হাসনা চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছে। খুব শিগ্গিরই ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য আনাকে তার বার্ষিক টিউশন ফি জমা দিতে হবে। খাওয়া-দাওয়া লজিং খরচসহ প্রয়োজন প্রায় ২০ হাজার পাউন্ড স্টার্লিং অথচ খরচ করার মতো ২ হাজার পাউন্ডও তার হাতে নেই। ফেলোশিপের টাকা শুধু তার নিজের খরচ যোগানোর মতো পর্যাপ্ত হতে পারে এবং জুলাই মাসে তাও শেষ হয়ে যাবে। কারো কাছ থেকে এত বড় অংকের সাহায্য ধার হিসেবে সংগ্রহ করাও কঠিন।

বুধবার ২৩ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৭৭
আজ দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ ছিল না। কাজ করছিল না জেনারেটরও। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে মূলত মোমবাতি জ্বালিয়েই আমাকে প্রায় সারা দিন কাজ করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি আমাকে, পাপারাজির ধাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিন্সেস ডায়ানার করুণ মৃত্যুর পর জন এল্টনের বিখ্যাত গান ‘ক্যান্ডেল ইন দ্যা উইন্ড’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের চিরায়ত মূল্যবোধের ওপর ডায়ানার বিদ্রোহের কারণে তিনি ইতিহাসে একজন কিংবদন্তী রাজকুমারী হিসেবে বেঁচে থাকবেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিদিন অবনতি ঘটছে। নাগরিকেরা প্রতিনিয়ত নিহত হচ্ছে ক্রসফায়ারে। অথচ সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার হলো, রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অভিযান আর জনগণের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়টি এখন অগ্রাধিকারের তালিকায় অনেক নিচে।

বৃহস্পতিবার ২৪ এপ্রিল ২০০৮ দিন ৩৭৮
শেখ হাসিনার মামলায় সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব সমুন্নত রেখে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে জামিন মঞ্জুর করার পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ জরুরি আইনের দোহাই দিয়ে তা খারিজ করে সংবিধানে উল্লিখিত মৌলিক অধিকারকে চরমভাবে অবজ্ঞা করে চলেছে। সুতরাং এখন থেকে সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন মামলার কোনো ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী কেউ আর দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়েরকৃত দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জামিন পাবে না। তাহলে এখন জনগণ কার দ্বারস্থ হবেন? শুধুমাত্র রাজনীতিবিদেরাই নন, এখন থেকে জরুরি আইনে সাধারণ মামলায় সন্দেহজনকভাবে আটক হাজার হাজার লোক জামিন না পেয়ে জরুরি আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক থাকতে বাধ্য হবেন। এই রায় জনগণের স্বাধীনতা হরণ ছাড়াও অবৈধ সরকারের ক্ষমতারও আইনগত ভিত্তি দিয়ে দিয়েছে।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো- খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি অপরাধে দ-বিধি। আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জামিন পাওয়ার অধিকার ঠিকই বহাল রাখা আছে।
পা ফোলার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল আমাকে। প্রফেসর আব্দুল্লাহ যত্নসহকারে আমার দেখাশোনা করছেন।

এ/

0Shares