মুসলিম নির্যাতনের জন্য চীনের নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি ইমরান খানের

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১২:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক::সিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমের বিরুদ্ধে যে দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে সে জন্য চীনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রোববার তিনি অনলাইন অ্যাক্সিওস’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। উইঘুর মুসলিমদের যেভাবে আটক করে রাখা হয়েছে এবং তাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে- তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জোরালো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে ইমরান খান বলেছেন, আমাদের সবচেয়ে কঠিন সময়ে চীন আমাদের অন্যতম মহৎ বন্ধু হয়ে উঠেছে। সিনজিয়াং নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা হতে হবে রুদ্ধদ্বার। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সিনজিয়াংজুড়ে বিভিন্ন বন্দিশিবিরে কমপক্ষে ২০ লাখ উইঘুর ও অন্য মুসলিম সংখ্যালঘুকে আটকে রেখেছে চীন। এসব বন্দিশিবিরের সাবেক অনেক বন্দি অভিযোগ করেছেন, ওইসব বন্দিশিবিরে তাদের মতবিরোধী দীক্ষা দেয়া হয়, শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং বন্ধ্যাকরণ করা হয়।

সিনজিয়াংয়ে চীন সরকারের এসব কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বেশ কিছু দেশের পার্লামেন্ট গণহত্যার সামিল বলে উল্লেখ করেছে।

কিন্তু ইমরান খান বলেছেন, ইসলামাবাদের সঙ্গে প্রাইভেট আলোচনায় উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। ইমরান খানের ভাষায়, তারা যা করছে তার প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই। কিভাবে এ ইস্যুটি পশ্চিমা বিশ্বের কাছে একটি বড় ইস্যু হয়ে ওঠে? কেন কাশ্মীরের মানুষের বিষয়কে উপেক্ষা করা হচ্ছে? কাশ্মীরের বিষয়টি এক্ষেত্রে আরো বেশি প্রাসঙ্গিক।

উল্লেখ্য, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সহিংস লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর। ২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকা জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত ভেঙে দুটি ইউনিয়ন টেরিটোরিতে ভাগ করে। এর ফলে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অবসান হয়। ওই অঞ্চলে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরালো হয়। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে দমনপীড়নের পর সেখানে স্বায়ত্তশাসন বাতিল করা হয়। বন্ধ করে দেয়া হয় কাশ্মীরের সব যোগাযোগ। চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ধর্ম ইসলাম। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃহৎ মুসলিম দেশ পাকিস্তান। এর প্রধানমন্ত্রী এখন ইমরান খান। তিনি বলেন, আমি বিশ্বের দিকে তাকাই। দেখি কি ঘটছে ফিলিস্তিনে, লিবিয়ায়, সোমালিয়ায়, সিরিয়ায়, আফগানিস্তানে। আমি কি সবকিছু নিয়ে কথা শুরু করছি?

ওদিকে চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব পাকিস্তানের। অবকাঠামো খাতে চীন যে বিনিয়োগ করেছে তাতে এ দেশটি প্রভূত সুবিধা পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈশ্বিক বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ। ইমরান খান ২০২০ সালের অক্টোবরে মুসলিম দেশগুলোকে পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান ইসলাম ভীতির বিরুদ্ধে জাগ্রত হওয়ার আহবান জানিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন। এরপরই তিনি ওই মন্তব্য করেন।

রোববারের সাক্ষাৎকারেই যে তিনি প্রথম সিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে সমালোচনাকে এড়িয়ে গিয়েছেন এমন নয়। ২০১৯ সালের মার্চে তিনি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছিলেন, চীনের পশ্চিমাঞ্চলে গণগ্রেপ্তার বা গণহারে আটক রাখার বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না। উল্লেখ্য, সিনজিয়াং প্রদেশটি তার দেশের সীমান্তের সঙ্গে লাগা।

এম/

0Shares