সিলেটে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৫ সুপারিশ

dial dial

sylhet

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই আক্রান্ত সনাক্তে নতুন রেকর্ড হচ্ছে। কঠোর লকডাউন দিয়েও ঘরে রাখা যাচ্ছে না জনসাধারণকে। পরিস্থিতি এতোই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এখন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালেও মিলছে না সিট। আর আইসিইউ যেন হয়ে ওঠেছে সোনার হরিণ।

এদিকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন শুক্রবার ‘করোনা সংক্রমণ ও প্রতিরোধসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা কমিটির’ জরুরি বৈঠক ডাকেন। সেই সভায় বিশেষজ্ঞরা করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ৫টি সুপারিশ করেছেন। এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের তাগিদ দেয়া হয়েছে।

সভায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে রোগীর সংখ্যা কমানো তথা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দিয়ে আরো বেশি করে গণসচেতনতা তৈরির উপর গুরুত্ব এবং লকডাউন অর্থবহ করতে জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশসানকে আরো কঠোর ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। শুধু প্রধান সড়ক বা শহরের মধ্যে অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে শহরের পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দেয়া হয়।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে উপজেলাগুলোর ইউনিয়ন ও শহরের ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে তাদেরকে মাঠে নামানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। গণসচেতনতা তৈরিতে মসজিদে মসজিদে করোনার ভয়াবহতা, সতর্কতা ও সুরক্ষা নিয়ে ইমামদের ভূমিকা রাখতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়। ঈদুল আযহায় যাতে যত্রতত্র কোরবানীর পশুর হাট না বসে এবং বৈধ পশুর হাটে যাতে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখার তাগিদ দেয়া হয় প্রশাসনকে। এন্টিজেন পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে আক্রান্ত সনাক্তের পাশাপাশি তাদেরকে কঠোর আইসোলেশনে রাখা গেলে সংক্রমণ অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে অভিমত দেন বিশেষজ্ঞরা। আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে জেলা শহরের হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে বলে জানান তারা।

অনলাইন এই সভায় বিশেষজ্ঞরা পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে দেখান, গ্রামে এখন আশঙ্কাজনকভাবে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই উপজেলা থেকে যেসব চিকিৎসক ডেপুটেশনে জেলা সদরের হাসপাতালে আনা হয়েছিল তাদেরকে নিজ নিজ উপজেলায় ফিরে যেতে হবে। মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের জেলা সদরের হাসপাতালে আরো বেশি করে সময় দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

সিলেটের কোভিড ডেডিকেটেড শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও বিভাগের সর্ববৃহৎ সরকারি হাসপাতাল ওসমানীতে রোগী বাড়লেও পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের নিশ্চয়তা দেন অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রার প্রতিনিধি। এছাড়া ওসমানীতে কোভিড চিকিৎসার জন্য শয্যা বৃদ্ধি এবং খাদিমপাড়া ও দক্ষিণ সুরমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধির তাগিদ দেয়া হয়।

সভায় পরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সিলেটের করোনা পরিস্থিতির উন্নয়নে কঠোর লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মানুষকে বাধ্য করতে হবে। সংক্রামণের হার কমাতে না পারলে আইসিইউ বেড বা হাসপাতাল বাড়িয়ে কোন লাভ হবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অচিরেই এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবো। ইতোমধ্যে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন এসেছে আরো পাইপ লাইনে রয়েছে।

সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ছাড়াও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ, স্বাস্থ্যবিভাগের সচিব মো. লোকমান মিয়া, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, ওসমানী হাসপাতালের উপ পরিচালক, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্যবিভাগ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডায়ালসিলেট/এম/এ/

0Shares