ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে

প্রকাশিত: ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২১

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে

ডায়ালসিলেট ডেস্ক::বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষাখাত নিয়ে সরকারের যে উদাসীনতা দেখলাম তা গ্রহণযোগ্য নয়। এই মহামারির সময় শিক্ষাকে শুরু থেকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। ভ্যাকসিনের বিরাট ব্যর্থতা রয়েছে শিক্ষাখাতে। শুরুতেই সকল শিক্ষকদের ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা গেলে আরও আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে পারতো। আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ড. সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, এই করোনায় আমরা সব কিছুতেই পিছিয়েছি কিন্তু সবচেয়ে বেশি সংকুচিত হয়েছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা ব্যবস্থায় যে ফাঁক সৃষ্টি হয়েছে তা পূরণ করতে সময় লাগবে। সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকে তাহলে কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব। শহরে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে কিন্তু গ্রামে-গঞ্জের শিক্ষার্থীরা কোনো ক্লাস করার সুযোগ ছিল না। শহর আর গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বরাবরই বৈষম্য ছিল। কিন্তু এই করোনায় বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিলো। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষাখাতে বৈষম্য বেড়েছে। অন্যদিকে গত দেড় বছরে অনেক শিক্ষার্থী জীবিকার তাগিদে ঝরে পড়ছে। এসব ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে শিক্ষাখাতে ভর্তুকি দেয়ার পরামর্শ রেখে এই শিক্ষাবিদ বলেন, ভর্তুকির টাকা যেন অযোগ্য লোকের কাছে চলে না যায়। যোগ্য লোকদের কাছে এ দায়িত্ব দিতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। এ জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার দরকার। যাতে এই অর্থ কেউ লুটপাট করতে না পারে। এসব ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। সরকার এক ধরনের চাপের মুখেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে বাধ্য হয়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকসহ সবস্তরেই এক ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares