ডায়ালসিলেট ডেস্ক :: কানাডার আগাম জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এরিন ওটুলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচনের মধ্যদিয়ে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছেন লিবারেল রাজনীতিক ট্রুডো। কিন্তু তার দিকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন নবাগত কনজারভেটিভ রাজনীতিক ওটুল।

ইতোমধ্যে ব্যালট বক্সে নিজেদের মতামত জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির দুই কোটির অধিক নাগরিক। এখন চলছে ভোট গণনা। গণনা শেষ হলেই জানা যাবে ট্রুডোই ক্ষমতায় থাকছেন নাকি বিদায় নিচ্ছেন। কানাডার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের ৪৪তম নির্বাচন এটি।

সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশটিতে মোট ৩৩৮টি আসন রয়েছে। এই ৩৩৮টি আসনের জন্য মোট প্রার্থী ২০১০ জন। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রতিদ্বন্দিতা হচ্ছে মূলত তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে। দলগুলো হচ্ছে ট্রুডোর ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি, কনজারভেটিভ পার্টি ও নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি।

পুরো দেশ ছয়টি টাইমজোনে বিভক্ত হওয়ায় ভোটগ্রহণ শুরুর ও শেষ হওয়ার সময়ের মধ্যে বেশ পার্থক্য হয়ে থাকে। আটলান্টিক মহাসাগরীয় পাড়ের প্রদেশগুলোতে সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায়। পূর্বাঞ্চলীয় টাইমজোনের অন্তর্ভুক্ত প্রায় সমগ্র কুইবেক ও অন্টারিও এবং নুনাভুত প্রদেশে শুরু হয় সকাল সাড়ে ৯টায় আর শেষ হয় রাত সাড়ে ৯টায়। সর্ব পশ্চিমের ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে শেষ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। ‘ইলেকশন্স কানাডা’র তথ্যমতে, এবার ভোটার ছিলেন ২ কোটি ৭০ লাখের বেশি। এর মধ্যে আগাম ভোটে প্রায় ৫৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যালট জমা পড়েছে। নির্বাচনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক মেইল-ইন-ব্যালট জমা পড়ায় ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। মূলত নির্বাচনটি হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের অক্টোবরে। কিন্তু গত জুলাই মাসে হঠাতই গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমনকে সংসদ ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ করেন ট্রুডো। নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগে এই নির্বাচনের প্রশ্নে তার যুক্তি-সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে প্রয়োজনীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে তাদের সমস্যা হচ্ছে।

সংসদে তাদের নীতি-কর্মসূচি বাস্তবায়নে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন ও নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতেই গত ১৫ আগস্ট আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন ট্রুডো। কিন্তু ট্রুডোর তৃতীয় মেয়াদের আশা নিরাশায় ডুবে যেতে পারে। কারণ গত প্রায় দুই মাসের প্রচারণাকালে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে আবির্ভূত হন কনজারভেটিভ পার্টির এরিন ওটুল। কানাডায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য ১৭০টি আসন প্রয়োজন।

কিন্তু গত নির্বাচনে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি ১৫৭টি আসন নিয়ে মাইনোরিটি সরকার গঠন করে। এবারের নির্বাচনে ট্রুডোর লিবারেল পার্টি এবং এরিন ওটুলের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায় বিভিন্ন জরিপে।

দুই দলেরই জনপ্রিয়তা ৩১-৩১ শতাংশের মতো। এবারের নির্বাচনে মহামারি ছাড়াও দেশের অর্থনীতি, আবাসন, জলবায়ু সংকট, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

ডায়ালসিলেট/এম/এ/

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *