শাহজালালে রুদ্ধশ্বাস সাড়ে তিন ঘণ্টা

প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০২১

শাহজালালে রুদ্ধশ্বাস সাড়ে তিন ঘণ্টা

ডায়ালসিলেট ডেস্ক;:একটি ফোন কল আসে র‌্যাব’র কাছে। এতেই শাহজালাল বিমানবন্দরের চারদিকে পড়ে যায় হুলুস্থূল। ফোন কলে খবর আসে মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি ফ্লাইটে পাকিস্তানি দুই যাত্রীর কাছে বোমা আছে। বুধবার রাতে শাহ্‌জালাল বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছিল। সবাই যে যার মতো কাজে ব্যস্ত। বিমানবন্দরের দুই টার্মিনালেই যাত্রী আসা-যাওয়া করছিল। টার্মিনালে যাত্রীদের স্বজনরা কাউকে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিদায় দিচ্ছেন। আবার কোনো কোনো স্বজন যারা বিদেশ থেকে দেশে আসছেন তাদের নেয়ার জন্য এসেছেন। কিন্তু একটি খবরে হঠাৎ করে পুরো বিমানবন্দরের চিত্র বদলে দেয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

ঢাকায় অবতরণ করতে যাওয়া মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বোমা আছে- এমন খবর আসে র‌্যাব’র কাছে।
বিমান জরুরি অবতরণের জন্য রানওয়ে প্রস্তুত করে নেয়া হয়। বিমানবন্দরকে কর্ডন করে নেয় পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থাগুলো। প্রস্তুত করা হয় বিমান বাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট, পুলিশের সন্ত্রাস দমন ইউনিট (সিটিটিসি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যদের। শাহ্‌জালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বার বার মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না পেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংহত করা হয়। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমানবন্দরের ভেতরে কীভাবে মুভ করতে হবে তা পরিকল্পনা তৈরি করে সিসিটিসি। রাত ৯ টা ৩৮ মিনিট তখন ১৩৫ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর উত্তেজনার পারদ আবারও ছড়িয়ে পড়ে। বিমানটি রানওয়েতে অবতরণ করার পর ‘ট্যাক্সিওয়েতে’ পার্ক করা হয়। শুরু হয় ম্যারাথন তল্লাশি। ফ্লাইটটি অবতরণ করার পর বোম ডিসপোজাল ইউনিট বিমানের মধ্যে প্রথম প্রবেশ করে। অনেক যাত্রী হওয়ার কারণে তল্লাশিতে সময় লাগে বেশি। দীর্ঘ সময় লাগার কারণে বাইরে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তারা অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিমানের মধ্যে থাকা যাত্রীদের দেহসহ প্রত্যেকটি জিনিস তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়। শাহ্‌জালালের হ্যান্ডলিং এজেন্টের কর্মীরা যাত্রীদের নামানো ও লাগেজ নামানোর কাজটি করেন। বোমা খুঁজতে ব্যবহার করা হয় ডগ স্কোয়াডের কুকুর। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি বোমা। ফোন কলে খবর আসে যে- বিমানে দুই পাকিস্তানি নাগরিক বোমা নিয়ে এসেছেন। তবে সেই ফ্লাইটে ছিলেন না কোনো পাকিস্তানি নাগরিক। ১৩৫ যাত্রীর মধ্যে একজন মাত্র মালয়েশিয়ান নাগরিক ছিলেন। ওই নাগরিক আবার বাংলাদেশে ট্যুরিস্ট ভিসায় এসেছেন। পরে যাত্রীদের সবাইকে টার্মিনালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অভিযান সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বিমানবন্দরের বাইরে যেতে দেয়া হয়নি। র‌্যাব’র কাছে বোমা থাকার খবর আসার পর ৩ ঘণ্টা ২২ মিনিট পরে বিমানটিকে নিরাপদ ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় কোনো বোমা না পাওয়ায় কাউকে আটক করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে কিছু যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে যাত্রীদের তখন যার যার গন্তব্যে যেতে বলা হয়। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি, আগাম তথ্য না দেয়া এবং বিমানবন্দরে এসে সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিছু যাত্রী।

বিমানটিকে নিরাপদ ঘোষণার পর এক প্রেসবিফ্রিংয়ে শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদুল আহসান জানান, ওই ফ্লাইটে কোনো বোমা পাওয়া যায়নি। মালেয়েশিয়ার একটি ফোন নম্বর থেকে বার্তা এসেছিল যে, পাকিস্তানি দুই যাত্রীর সঙ্গে বোমা রয়েছে। তবে ফ্লাইটে পাকিস্তানি কোনো যাত্রী ছিলেন না। তিনি আরও জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে র?্যাবকে মালয়েশিয়ার একটি নম্বর থেকে একটি বার্তা দেয়া হয়। আমরা মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু কোনো তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। আমরা বিষয়টি হালকাভাবে দেখিনি। তাই আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসাইন জানান, মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজে বোমা রয়েছে আমরা জানতে পারি। পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সেখানে পাঠানো হয়।

এদিকে, কিছু যাত্রী বিমানবন্দরের পারিচালক এএইচএম তৌহিদুল আহসানের কাছে এসে ক্ষোভ জানিয়েছেন। রাতে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করার পর তাদের এক বোতল পানিও দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় ওই যাত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালক জানান যে, আমরা আসলে একটা জরুরি অবস্থার মধ্যে কাজ করছিলাম।

ডায়ালসিলেট এম/

0Shares