সোহেল আহমদ :: সিলেটে নতুন করে সংগঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপি‘র অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পদধারী কিছু নেতারা দৌরাত্ম্য। প্রায় ১৫ বছর স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে দলের দুর্দিনে আন্দোলন সংগ্রামে অনেককে দেখা যায়নি রাজপথে অবস্থান করতে। এখন তারাই আবার দলের বিভিন্ন পদের আকস্মিকভাবে দায়িত্ব নিয়ে বিভিন্ন দখলদারী টেন্ডারবাজিসহ নানান অপকর্মে জড়িত হচ্ছেন। এতে দলের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষমতাসীন দল বিএনপির।

এদের মধ্যে একটি অংশ সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জবর দখল ও টেন্ডারবাজিতে মগ্ন। তাদের এক গ্রুপ নিলামের কাজে ব্যবসায়ীদের জোরপূর্বকভাবে হুমকী-ধামকী দিয়ে বাধা প্রধান করা। নিলাম শেষে কমিশনের ভাগ হাতিয়ে নেয়া। আর আরেকটি অংশ প্রকাশ্যে না এসে নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ভাগের অংশটি আদায় করে স্বার্থ হাসিল করা। এ যেন মহারতী উৎসব।

ভাগাভাগি ধরণ :

সরকারি টেন্ডার নিলামে কমদামে ক্রয় করে সেটি আবার নিজেদের মধ্যে বিত্রি করে ১০০ ভাগ লাভ করে তার মধ্যে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সিলেট মহানগর ছাত্রদল, যুবদল ও সেচ্ছাসেবকদলের বেশকয়েকজন নেতাকর্মীরা এর ৭০ ভাগ অংশীদারী জোরপূর্বক আদায় করে আর বাকি ৩০ ভাগের লাভ সাধারণ ব্যবসায়ী ও টিকাদারদের ভাগে পরে। এতে নিরোপায় হয়ে ব্যবসায়ী নিরবে স্থান ত্যাগ করে চলে যেতে হয়।

গতকাল রবিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ঠিক তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে সিলেটের কোর্ট প্রাঙ্গন এলাকায় ২৫ টি গরুর নিলামের ডাক নিয়ে। এসময় সেখানে দলবল নিয়ে ছুটে আসেন ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবকদলের নামধারী বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

নিলাম শুরু হওয়ার পূর্বে সবার সামনে হুশিয়ারী করে  কাজী ইলিয়াস গ্রুপের এক নেতা বলেন, এই টেন্ডারো যুবদল ও সেচ্ছাসেবকদলের দ্বায়িত্ব আমারে দেয়া ওইছে। আমি ছাড়া এখানো যেগো য়ে মাতবো তার খবর আছে? বলে এভাবেই সবাইকে প্রকাশ্যে হুশিয়ারী দেন এতে করে ব্যবসায়ীদের অনেকেরই ভয়ভীতি কাজ করে চুপ থাকেন। সময় সাধারণ ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনায় দলের পোষ্টে থাকা অনেক নেতাদের নাম এসেছে তবে তাদের সরাসরি ইন্ধন না থাকলেও পেছনে পেছেনে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই দলের এক নেতা জানান , আমরা দলের দূর্দিনে রাজপথে অনেক মিছিল আন্দোলন করেছি কিন্তু দেখা যায় আমদেরকে দল সঠিক সম্মান দেয় না। এখন বাইরে থেকে উড়িয়ে এসে জুড়িয়ে বসে শীর্ষনেতাদের সাথে লিয়াজো করে পদ নিয়ে তার অপব্যবহার করে। তা কি দলের কেউ দেখেন না।

টেন্ডারবাজি ,দখলবাজি, বিভিন্ন মামলা দিয়ে মানুষদেরকে হয়রানি করছে। যা একজন শহীদ জিয়া আদর্শের সৈনিক হতে পারে না। এর পেছনে জড়িতে রয়েছে বিভিন্ন পদধারী শীর্ষ নেতারা। তারা এখন ক্ষুধার্ত হয়ে সাধারণ ব্যবসায়ী ও জনগণদের উপর বেপোরোয়া অন্যায় অবিচার করছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। যা দলের জন্য বিপদ বয়ে আনবে।

একটি সূত্রে জানা যায়, এসব নিলামের একটি সিন্ডিকেল কাজ করছে তাদেরকে বেকআপ দেয়ার জন্য বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতারাও জড়িত রয়েছেন। তবে সরেজমিনে দেখা যায় এ ঘটনার নেতৃত্ব দিচ্ছে চিনির চোরাচালান সিন্ডিকেটের দালাল চারাদিঘীরপারের বাসিন্দা দুলাল নামের যুবদল নেতার নাম আসে। এছাড়াও যুবদল নেতা শাকিল আহমদ খান, মো.জসিম উদ্দিনসহ উপস্থিত ছিলেন যুবদল পুরানলেন এর প্রায় ২০-২৫জন নেতাকর্মী।

এবিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি এম এ মালিক ডায়ালসিলেটকে বলেন, তারুণ্যের অহংকার আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমান বলেছেন যদি কেউ বিএনপি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোন ধরনের অপকর্ম করে তাদেরকে চিহ্নিত করে পুলিশে দিন। সুতরাং এরা কেউ দলের না।

এম এ মালিক বলেন, আমাদের লিডারের নির্দেশ যারা অমান্য করবে তাদেরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে টেন্ডারবাজি বা জমিদখল করে কোন ধরনের প্রমান পেলে সাংগঠনিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আমরা চাই দেশে সুষ্টু ও সুন্দর পরিবেশ ফিরে আসুক। জনগণের আমানত ভোটের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ তাদের পছন্দের দলকে নির্বাচিত করুক। দেশে শান্তি ফিরে আসুক।

এদিকে টেন্ডারে ঘটে যাওয়া ব্যবসায়ীদের উপর জোরপূর্বক মানসিক চাপপ্রয়োগ ও ভয়তীতি প্রদর্শন করা এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে সিলেট জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ ডায়ালসিলেটকে জানান, আমি বেশ কয়েকদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছি। এবিষয়টি সম্পর্কে আমার কিছু জানা নাই আপনার কাছ থেকে শুনলাম। বিষয়টি দেখছি তবে এরকম কিছু হলে সাংগঠনিকভাবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

এর আগে বিগত ২সপ্তাহ পূর্বে চিনির বস্তা নিলাম ডাকা নিয়ে সেখান থেকে ১৩ লাখের বেশী আয় হয়। সেখানেও এসে নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক ৭০ ভাগ কমিশন দাবি করে। বাকি ৩০ ভাগ ব্যবসায়ীদের হাতে সমজিয়ে দেয়ার কথা বলে। এর ৬দিন পর ৬০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

সিলেটে ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবকদলের নেতাকর্মীদের হাতে জিম্মি এখন সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা।

 

 

উল্লেখ্য,  বৈষম্য ছাত্র আন্দোলন ও জনসাধারণের তোপের মুখে পড়ে প্রাণ বাচাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ৩দিনের মাথায় ড.মুহম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বতীকালীন সরকার দ্বায়িত্ব দেয়া হয় বেশ কয়েকজনকে। এরপর আইনশৃঙ্খলাবাহির অনুপস্থিতিতে দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় হামলা ও ভাংচুর করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীর টহলে পরিবেশ কিছুটা স্বস্তি আনে।

 

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *