স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জে এনসিপি( জাতীয় নাগরিক পার্টি) নেতা ও পুলিশের হয়রানীর শিকার হয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র দিনযাপন করছেন গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ শাখার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্মী শাহী আলম। তিনি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আক্তাপাড়া গ্রামের আখলাকুল ইসলামের ছেলে।
জানা যায়, গত ৩১ শে মার্চ ২০২৫ইং সোমবার গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ চত্বরে এনসিপির ছাত্রদের হামলার শিকার হন শাহী আলম। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হামলার মূল নেতৃত্ব দেন সাবেক কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি ও এনসিপির নেতা আশরাফ।
এবিষয়ে শাহী আলমের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বললে তার পিতা আখলাকুল ইসলাম ডায়ালসিলেটকে বলেন, আমার ছেলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আজ ঘর ছাড়া।
এর আগে গত ২০২২ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরে আওয়ামীলীগ সরকার থাকাকালীন সময়ে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি মো. আশরাফের নেতৃত্বে তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র সজ্জিত হয়ে আমার আপন ভাই অত্র কলেজের সাবেক বাংলা প্রভাষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলামকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে এবং গুরুত্বর আহত করে । পরে স্থানীয়দের সহযোগিতা নজরুল ইসলামকে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরো বলেন, সেই ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফ দল বদল করে এখন এনসিপিতে যোগদান করে।
আশরাফ ও তার সহযোগিদের নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক স্মৃতি কলেজ চত্বরে আমার ছেলে শাহী আলমের উপর অতর্কিত হামলা চালায় গুরুত্বর জখম করে । পরে প্রথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় নিয়ে আসলে এর ২দিন পর আবারো আমাদের বাড়িতে আশরাফ ও তার সহযোগীদের নিয়ে এসে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে । পরে আমার ছেলে আলমকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং হত্যা মামলা আসামী বানিয়ে জেলে পাঠাবে বলে হুশিয়ারী দেয়।
এরপর পরদিন আমাদের বাড়িতে পুলিশ আসে আমার ছেলে আলমকে খুজ করতে। আমার ছেলে বাড়ির বাইরে থাকায় পুলিশ গ্রেফতার করতে পারি নি। এ অবস্থায় আমি ও আমার পরিবারের সকলেই নিরাপত্তাহীতায় ভূগছি। আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এনসিপি কর্মী ও পুলিশের সদস্যরা নজরুল ইসলামের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিকভাবে পরিবারের সকলকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে। তাঁদের বাড়ির চারপাশে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে, যা একটি পরিকল্পিত দমননীতির অংশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী সকলেই নিরুপায় কেউ এবিষয়ে কথা বলতে গেলে তাদেরকে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাবে বলে ভয় দেখনো হয়।
এবিষয়ে ছাতক থানার অসির সাথে কথা ফোনে কথা বলতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ অবস্থায় শাহী আলম বর্তমানে বাড়ি থেকে অন্যত্র কষ্টে জীবন পার করছেন। বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতা ভূগছেন।