ডাযাল সিলেট ডেস্কঃ-

গোটা সিলেটজুড়ে পাথর লুটপাটের হিড়িক পড়েছে । সাদাপাথরে নজিরবিহীন লুটপাট, জাফলংয়ে পাথর-বালু লুটপাট ঘিরে যখন দেশজুড়ে উত্তাল হাওয়া বইছে। ঠিক তখনই আরেক পাথর লুটের কেন্দ্র হয়েছে জৈন্তাপুরের ভারত সীমান্তঘেষা পর্যটন কেন্দ্র রাংপানি। ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ও জাফলংয়ে পাথর লুটের ঘটনাও পর্যটকদের মর্মাহত করেছে। পর্যটন ধ্বংসের ঘটনায় সমালোচিত হয়েছে প্রশাসনো। এ অবস্তায় যৌথ বাহিনী লুন্ঠিত পাথর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এমন সময় , লুটেরাদের চোখ ছিল জৈন্তাপুর উপজেলা রাংপানি পর্যটন কেন্দ্রে। এই সময় দৃষ্টির আড়ালে থাকা জৈন্তাপুর ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন রাংপানি পর্যটন কেন্দ্রে লুটপাট চলেছে।

পাথরখেকোরা লুটে নিয়েছে পর্যটন কেন্দ্রটির পাথর। এ যেনো সিলেট জুড়ে চলছে লুটপাট। উপজেলা, পুলিশ প্রশাসন ও বিজিবির নিরবতার কারণে পাথরখেকোরা লুটপাট অব্যাহত রেখেছে পাথরখেকোরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পর্যটন কেন্দ্র থেকে লুট হওয়া পাথর নিয়ে যখন সংবাদ মাধ্যম তোলপাড়, তখন টনক নড়ে প্রশাসনের। লুট হওয়া পাথরের খুঁজে ভোলাগঞ্জ থেকে জৈন্তাপুর পর্যন্ত নজরদারির আওতায় নিয়ে আসে প্রশাসন।

অথচ জৈন্তাপুর এলাকার মোকামপুঞ্জি সীমান্ত এলাকায় লুটপাট চলে। ইতিমধ্যে ছোট পাথর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রোববারও বড় পাথরগুলো লুটপাট করে নিচ্ছিল পাখরখেকোরা।
স্থানীয়রা বলেন, পাথর উত্তোলনের কারণে তাদের বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়ছে। রোববার সকালেও বড় পাথরগুলো লুটপাট হচ্ছিল, তখন বিজিবি এসে বাঁশি বাজিয়ে চলে যায়। তখন আবারো শুরু হয় লুটপাট।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, রাংপানি নদীর ৪টি পয়েন্ট শ্রীপুর কোয়ারি, আদর্শগ্রাম, খড়মপুর ও বাংলাবাজার ঘাট (প্রথম পাতার পর)
থেকে পাথর উত্তোলন করা হয়। আগস্টের আগে থেকেই।

অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগে এই পাথর কোয়ারি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপির একাধিক ও স্থানীয় জামায়াত এক নেতার নাম উঠে এসেছে লুটপাটে। তবে এই লুটপাটের পেছনে প্রশাসনের হাত রয়েছে বলেও স্থানীয়রা জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার লাবনীকে একাধিবার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করেননি। জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদও ফোন রিসিভ করেননি।

জৈন্তাপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার মো. বদরুজ্জামান বলেন, রাংপানি পর্যটন এলাকায় এরআগেও অভিযান হয়েছে। পুলিশও অভিযান চালিয়েছে, তবে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়েও তিনি কিছুই জানেন না।

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়া এলাকায় ২ বছর পূর্বে জাফলং ও শ্রীপুর পাথর কুয়ারি থেকে পাথর সংগ্রহ করেন স্থানীয় ৩/৪ জন ব্যবসায়িঅ অধিক মুনাফার আশায় পাথর মজুদ করেন।

বিগত কয়েক মাস পূর্বে শ্রীপুর পাথর কুয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগে বর্তমান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফারজানা আক্তার লাব-নীর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এই পাথর গুলো জব্দ করা হয়েছিলো। অজ্ঞত কারণে পাথর গুলোর বিষয়ে পরবর্তীতে আর কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। আগস্টের শুরুতেই সাদা পাথর লুটপাট করে নিয়ে যায় পাথরখেকোরা। গণমাধ্যমের সোচ্ছার ভূমিকায় যৌথবাহিনী পাথরের খুঁজে দেশ ব্যাপী চালায় পাথর উদ্ধারে।

এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জৈন্তাপুর উপজেলার আসামপাড়া এলাকায় পূর্বের জব্দ কৃত মজুদ করে রাখা ৭ হাজার ঘনফুট পাথর ভোলাগঞ্জের লুট হওয়া পাথর নাটক সাজিয়ে ২য় দফায় অভিযান চালিয়ে পাথরগুলো জব্দ করে রাতেই গাড়িতে করে জাফলংয়ে ও সাদাপাথর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এই অভিযানেও নেতৃত্ব দেন ৮ মাস পূর্বের অভিযানে থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও সহকারি ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার লাবনী। এ নিয়ে এলাকায় দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

এলাকাবাসীর দাবি, উদ্ধারকৃত পাথরগুলো রাংপানি, জাফলং ও শ্রীপুর এলাকার। অথচ সমালোচনা এড়াতে সাদাপাথর আখ্যা দিয়ে ভোলাগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হাস্যকর ছাড়া কিছুই নয়। শুধু প্রশাসনের লোকজন নিজেদের দায় এড়ানোর জন্য পাথরগুলো ভোলাগঞ্জের বলে চালিয়ে দিয়েছে। এছাড়া লুট হওয়া পাথরগুলো দিনরাত সমান তালে নদী পথে বলগেট মাধ্যমে পাচার হলেও এখন পর্যন্ত নদী পথে কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, জব্দকৃত পাথরগুলো দীর্ঘদিন থেকে এখানে দেখে আসছি। পাথরগুলো জৈন্তাপুরের রাংপানি, শ্রীপুর ও জাফলংয়ের। এগুলো ভোলাগঞ্জের পাথর নয়

0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *