ডায়াল সিলেট ডেস্কঃ-
প্রশাসন শক্ত হলে যেকোনো কিছু সম্ভব। এর দৃষ্টান্ত, লুন্ঠিত সাদা পাথর ফেরত দেওয়ার প্রবণতা। স্বেচ্ছায় লুন্ঠিত পাথর ফেরত দিতে ৩দিনের আলটিমেটাম দেন নবাগত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এরপর পর কোম্পানীগঞ্জ থেকে লুট হওয়া সাদাপাথর নিজ খরচে বহন করে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করছেন ।
রোববার (২৪ আগস্ট) পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তি প্রায় দুই লাখ ঘনফুট পাথর প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন।স্থানীয় প্রশাসন জানায়, শনিবার বিকেল থেকে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে লুন্ঠিত পাথর ফিরিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রোববার পর্যন্ত মাইকিং অব্যাহত ছিল।
শনিবার জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার বেলা পাঁচটার মধ্যে মজুত রাখা সাদাপাথর নিজ খরচে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে প্রশাসনের কাছে জমা দিলেই বিনাশর্তে দায়মুক্তি পাওয়া যাবে। এ সময়সীমার পর যাদের কাছে পাথর পাওয়া যাবে, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের এমন ঘোষণার পর রোববার প্রথম দিন কোম্পানীগঞ্জ সদর ও আশপাশের এলাকার মজুতকারীরা লুটের পাথর নিজ খরচে ট্রাক, নৌকাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভোলাগঞ্জে এনে জমা দিয়েছেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার বিকেল থেকে রোববার রাত আটটা পর্যন্ত অন্তত শতাধিক মানুষ প্রায় ২ লাখ ঘনফুট সাদাপাথর স্বেচ্ছায় নিজ খরচে পরিবহন করে প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছেন।
সিলেট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোশনূর রুবাইয়াৎ বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের প্রথম দিন সদর উপজেলার দুজন ব্যক্তি আটটি ট্রাকে করে তাঁদের কাছে মজুত থাকা ৮০০ ঘনঘুট পাথর নিজ খরচে ভোলাগঞ্জে পাঠিয়েছেন।
এর আগে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ধোপাগুল এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত ৫০ হাজার ঘনফুট সাদাপাথর অন্তত শ’খানেক ট্রাকে ভরে ভোলাগঞ্জে পাঠানো হয়েছে।
এদিন (রোববার) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত উপজেলাটিতে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬০ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছে।
এছাড়া গোয়াইনঘাটের ইউএনও রতন কুমার অধিকারী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জৈন্তাপুর থেকে আরও সাড়ে পাঁচ হাজার ঘনফুট পাথর রোববার পাঠানো হয়েছে গোয়াইনঘাটে। ফেরত দেওয়া এসব পাথর জাফলং জিরো পয়েন্টে প্রতিস্থাপন করা হবে।
স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, লুট হওয়া সাদাপাথরের একটি বিশাল অংশ সিলেটের বাইরে চলে গেছে। অনেকে পাথর লুটে নিয়েছেন। আর ব্যবসার জন্য অনেকে এসব লুটের পাথর কিনে মজুত রেখেছেন।
এদিকে, প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক যারা নিজ খরচে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র সংলগ্ন ভোলাগঞ্জে রুটের পাথর ফেরত দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। সরাসরি লুটের সঙ্গে জড়িত না থাকলে এসব ব্যক্তিরা দায়মুক্তি পাবেন।