ডায়াল সিলেট ডেস্কঃ
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) এর পক্ষ থেকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠাসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য একটি স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সিলেটের বিভিন্ন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল এই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয় যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান জনতার সরকার শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিক্ষাকে মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অপরিসীম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষকের প্রতিনিধিত্বকারী একটি রেজিস্টার্ড পেশাজীবী সংগঠন। স্মারকলিপিতে দাবি করা হয় যে, সরকারি মাধ্যমিকে পদোন্নতিযোগ্য পদ মাত্র ৪% হওয়ায় দীর্ঘ ৩২-৩৩ বছর চাকরি করেও অধিকাংশ শিক্ষক পদোন্নতি ছাড়াই অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন। এছাড়া, পদোন্নতি প্রক্রিয়া অনিয়মিত থাকায় অনেক পদই খালি থাকে, যা মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নের পথে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করে।
উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে প্রথম দাবিটি হলো একটি স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা। যদিও মাধ্যমিক শিক্ষা স্তরটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তবুও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় এটি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। ইতিমধ্যে কারিগরি শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য আলাদা আলাদা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তাই, মাধ্যমিক শিক্ষাকে গতিশীল করতে একটি স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা সময়ের একটি জরুরি দাবি।
দ্বিতীয় দাবিটি হলো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রবেশপদ (এন্ট্রিপদ) ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার মাধ্যমে একটি চার স্তরীয় পদসোপান সৃষ্টি করা। বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষকদের পদমর্যাদা অন্যান্য সমমর্যাদার চাকরিজীবীদের তুলনায় পিছিয়ে আছে, যা বৈষম্যের সৃষ্টি করছে। এই অসামঞ্জস্য দূর করতে তাদের এন্ট্রিপদ ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তৃতীয় দাবিতে আঞ্চলিক উপপরিচালকের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পুনর্বহাল করার পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষা সংক্রান্ত সকল কার্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। আঞ্চলিক উপপরিচালকের কার্যালয় ঐতিহাসিকভাবেই মাধ্যমিক শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ফলে তাদের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, যা মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঋণাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
চতুর্থ দাবিটি হলো বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার সকল শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করার মাধ্যমে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করা। বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক স্তরে অনেক শূন্য পদ রয়েছে, যা পদোন্নতিতে জটিলতা সৃষ্টি করছে। এসব শূন্য পদ পূরণ করা গেলে শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান হতে পারে।
পঞ্চম ও শেষ দাবিটি হলো বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরী আদেশ প্রদান। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকগণ বছরের পর বছর ধরে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট রায় সত্ত্বেও এই দাবি পূরণ হয়নি। তাদের এই বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করা অত্যন্ত জরুরি।
সিলেটের জেলা শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক হেপী বেগম, সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরজাহান খানম চৌধুরী, দক্ষিণসুরমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুচরিতা দাস,এবং সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ নুরুল ইসলাম, তাজুল ইসলাম, লিটন চন্দ্র দেবনাথ, মো. আবুল খায়ের, শওকত হোসেন, আবু নছর মোহাম্মদ সুফিয়ান, জয়নাল আবেদীন খান, মোহাম্মদ আজিজুর রহমান এবং মো. শহীদুল আলম স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন। তারা সকলেই বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষে এসব দাবিসমূহের প্রতি পরিপূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন